জাপানে রেকর্ড বৃষ্টি: নারিতা বিমানবন্দরে আটকা হাজারো যাত্রী

১৪ আগস্ট, ২০২৬

জাপানে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতের কারণে ব্যাপক বন্যা দেখা দেওয়ায় টোকিওর নারিতা বিমানবন্দরে প্রায় ৭ হাজার যাত্রী আটকা পড়েছেন।বন্যায় আশপাশের সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে, বহু বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

টোকিও সংলগ্ন চিবা প্রিফেকচারের কিছু এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় ৩৬০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। জাপানের অন্যতম ব্যস্ত ছুটির সপ্তাহে এমন রেকর্ড বৃষ্টিতে সড়ক ও রেলপথ পানিতে ডুবে যায়।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত চারজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন পানিতে ডুবে যাওয়া একটি গাড়ির ভেতরে আটকা পড়েছিলেন। এ ছাড়া আরও একজন নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য ওই এলাকায় সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

চিবা প্রিফেকচারের গভর্নর তোশিহিতো কুমাগাই শুক্রবার সকালে সাংবাদিকদের বলেন, এটি অত্যন্ত অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। অতীতে আমি অনেক দুর্যোগ মোকাবিলা করেছি, কিন্তু এ ধরনের পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা কখনো হয়নি।

বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ১১টা পর্যন্ত চিবা প্রিফেকচারের ২২ হাজারের বেশি বাড়ি বিদ্যুৎবিহীন ছিল।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি চিবা শহরে শত শত মানুষ রাত কাটিয়েছেন সরকারি ভবনে তৈরি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে। সেখানে তাদের জন্য ফয়েল কম্বল, পানি ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।

নারিতা বিমানবন্দরে আটকা ৭ হাজার যাত্রী

বন্যার কারণে সড়ক ও রেল যোগাযোগে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটায় নারিতা বিমানবন্দরে প্রায় ৭ হাজার যাত্রী আটকা পড়েন বলে জানিয়েছেন বিমানবন্দরের একজন মুখপাত্র।

তবে শুক্রবার সব নির্ধারিত ফ্লাইট স্বাভাবিকভাবে পরিচালনার কথা রয়েছে। জাপান এয়ারলাইনস জানিয়েছে, কিছু ফ্লাইটে বিলম্ব হতে পারে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো ফ্লাইট বাতিলের পরিকল্পনা নেই।

চিবার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে যানবাহনগুলো বিকল্প পথে চলাচল করতে বাধ্য হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে মহাসড়ক পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান নেক্সকো ইস্ট।

বেশ কয়েকটি রেলসেবাও শুক্রবার সকাল পর্যন্ত বন্ধ ছিল। তবে নারিতা থেকে টোকিওগামী কিছু ট্রেন আবার চলাচল শুরু করায় আন্তর্জাতিক পরিবহন কেন্দ্রটিতে যাত্রীদের ভিড় কিছুটা কমেছে।

বিমানবন্দরেই রাত কাটালেন যাত্রীরা

রাতভর নারিতা বিমানবন্দরে শত শত যাত্রী কম্বল, পানির বোতল ও হালকা খাবার সংগ্রহের জন্য লাইনে দাঁড়ান। পরে তারা টার্মিনাল ভবনের বিভিন্ন স্থানে রাত কাটান। জাপানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকের প্রকাশিত ভিডিওতে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।

পরিবারসহ বিমানবন্দরে আটকে পড়া এক মার্কিন পর্যটক এনএইচকেকে বলেন, “এই ভ্রমণের কথা আমরা কখনো ভুলব না।

জাপানের ব্যস্ত ছুটির মৌসুমে এমন ভয়াবহ বৃষ্টিপাত দেশটির পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে চিবা প্রিফেকচারের বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।