১৫ আগস্ট, ২০২৬
দিনের সমস্ত ক্লান্তি দূর করে ঘুম মানুষের শরীরকে আবারও প্রাণবন্ত করে তোলে। এটি মহান আল্লাহ তায়ালার অশেষ নেয়ামতগুলোর মধ্যে একটি। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তিনিই তোমাদের জন্য রাতকে আবরণ ও নিদ্রাকে আরামপ্রদ করেছেন এবং দিনকে করেছেন জাগ্রত থাকার সময়।’ (সুরা ফুরকান, আয়াত : ৪৭)
পবিত্র কোরআনে মহান রাব্বুল আলামিন আরও ইরশাদ করেছেন, ‘আর আমি তোমাদের নিদ্রাকে করেছি ক্লান্তি দূরকারী। রাত্রিকে করেছি আবরণ।’ (সুরা নাবা, আয়াত : ৯-১০)।
তবে ঘুমন্ত অবস্থায় মানুষ অবচেতনভাবে নানা কাল্পনিক ঘটনা অনুভব করে থাকে, যাকে আমরা স্বপ্ন বলে অবহিত করে থাকি। এ ক্ষেত্রে স্বপ্নকে দুইভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। একটি হলো الرُّؤْيَا (আর-রুউয়া) বা ভালো স্বপ্ন এবং অপরটি الْحُلْمُ (আল-হুলমু) বা দুঃস্বপ্ন কিংবা খারাপ স্বপ্ন।
হাদিসে এসেছে, ভালো স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে, আর খারাপ স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে আসে।
(সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৫১৫, ৬৫৩৩)। এজন্য রাসুল (সা.) দুঃস্বপ্ন বা খারাপ স্বপ্ন দেখলে উম্মতদের মহান রাব্বুল আলামিনের নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করতে বলেছেন। আবার কোনো কোনো হাদিসে খারাপ স্বপ্ন দেখলে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনার পাশাপাশি বাম দিকে তিনবার থুথু ফেলার কথাও এসেছে। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস : ৩৪৫৩)
আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত আরেকটি হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- ভালো স্বপ্ন হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর দুঃস্বপ্ন হলো শয়তানের পক্ষ থেকে। কাজেই কেউ যদি স্বপ্নে অপছন্দনীয় কিছু দেখে, তবে সে যেন তার বাম দিকে তিনবার থুথু ফেলে, আর এর অনিষ্ট থেকে যেন আল্লাহর কাছে পানাহ চায়।
ফলে তা তার কোনো ক্ষতি করবে না। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস : ২২৮০)
এ ক্ষেত্রে ঘুমের মধ্যে অনেক সময় মানুষ স্বপ্নে মৃত বাবা-মা কিংবা পরিচিত কাউকে ডাকতে দেখেন। কেউ কেউ আবার নিজের কিংবা আত্মীয়-স্বজনদের কারও মৃত্যুও দেখে থাকেন। যার ফলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এমন শোনা যায় যে, স্বপ্নে মৃত কাউকে ডাকতে দেখা কিংবা নিজের মৃত্যু দেখার অর্থ কাছের কেউ বা পরিচিত কেউ মারা যাবে। এমন স্বপ্ন আসলেই কি এই ইঙ্গিত দেয়?
আলেমদের মতে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শয়তান মানুষকে নাজেহাল করতে খারাপ স্বপ্ন দেখায়। অযথাই মানুষকে ভয়ংকর কিছু দেখায় পেরেশানি বা দুশ্চিন্তায় রাখতে। তবে কেউ খারাপ স্বপ্ন দেখলে সেটি আল্লাহওয়ালা ব্যক্তি বা আলেম কিংবা স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানেন- এমন কাউকে ছাড়া অন্যদের বলার ক্ষেত্রে নিষেধ রয়েছে।
ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, স্বপ্নে কাউকে ডাকতে দেখা কিংবা নিজের মৃত্যু দেখলেই যে কেউ মারা যাবে, বিষয়টি এমন নয়। হতে পারে স্বপ্নে কেউ নিজের মৃত্যু দেখলো, অথচ বাস্তবে তার হায়াত (আয়ু) বাড়বে। এ কারণে যারা স্বপ্নের ব্যাখ্যা ভালো বুঝেন, এমন কারও কাছেই একমাত্র স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া উচিত।
জনপ্রিয় এই ইসলামিক স্কলারের ভাষ্য, যে স্বপ্ন দেখার পর নিজের মধ্যে অস্থিরতা কাজ করে, এমন মনে হয় যে স্বপ্নে খারাপ কিছুর ইঙ্গিত পেয়েছেন- এমন স্বপ্ন কাউকে বলা উচিত নয়। এমন হলে বেশি বেশি ইস্তিগফারের পাশাপাশি মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে পানাহ চাওয়া উচিত। সেই সঙ্গে সম্ভব হলে তৎক্ষণাৎ বাম পাশে তিনবার থুথু ফেলার পাশাপাশি দুই রাকাত সালাত আদায় করা যেতে পারে বলেও মত শায়খ আহমাদুল্লাহর।
মনে রাখতে হবে, আবু রাযীন রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুসলিমের স্বপ্ন হয় নবুওয়াতের ছেচল্লিশ ভাগের একভাগ। যতক্ষণ পর্যন্ত এ বিষয় কারও সঙ্গে আলোচনা না করে, ততক্ষণ তা পাখির পায়ের ঝুলন্ত জিনিসের মতো। কিন্তু কারও সঙ্গে আলোচনা করে ফেললে (প্রদত্ত তা’বীর অনুসারেই বা স্বপ্নের নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা অনুসারে) তা ঘটে যায়। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস : ২২৮২)
এ ছাড়াও ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন দেখার ক্ষেত্রে হাদিসে একই কথা হাদিসে এসেছে। আবু সালামা (রহ.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, আমি আবু কাতাদা (রা.) কে বলতে শুনেছি, তিনি এমন স্বপ্ন দেখতেন যা তাকে রোগাক্রান্ত করে ফেলত। অবশেষে তিনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেন- ভালো স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়ে থাকে। তাই যখন কেউ পছন্দনীয় কোনো স্বপ্ন দেখে তখন এমন ব্যক্তির কাছেই বলবে, যাকে সে পছন্দ করে। আর যখন অপছন্দনীয় কোনো স্বপ্ন দেখে, তখন যেন সে এর ক্ষতি ও শয়তানের ক্ষতি থেকে আল্লাহর আশ্রয় চায় এবং তিনবার থু থু ফেলে আর সে যেন তা কারও কাছে বর্ণনা না করে। তাহলে এ স্বপ্ন তার কোনো ক্ষতি করবে না। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৫৬৮)