রাজউকের নিষেধাজ্ঞার পরও কেরানীগঞ্জে চলছে ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণকাজ

১৬ আগস্ট, ২০২৬

ঢাকার কেরানীগঞ্জের জিঞ্জিরা এলাকায় রাজউকের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঝুকিপূর্ণ একটি বাড়ি নির্মাণের কাজ অব্যাহত রাখার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে নির্মাণকাজ বন্ধে দায়িত্বপ্রাপ্ত রাজউকের পরিদর্শক আব্দুল আলিমের বিরুদ্ধে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে ওই নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

পশ্চিম নামাবাড়ী, জিঞ্জিরা এলাকার একটি প্লটে মিসেস সামিরার নির্মাণাধীন বাড়ি নিয়ে এ অভিযোগের সূত্রপাত। গত ১৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে রাজউকের জোন-৫-এর অথোরাইজড অফিসার-৫/৩ মো. রকিবুল হাসান স্বাক্ষরিত কারণ দর্শানোর নোটিশে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

রাজউকের নোটিশে বলা হয়, রাজউকের মহাপরিকল্পনাভুক্ত এলাকার আওতাধীন মৌজা-জিঞ্জিয়া, কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন ওই প্লটে ইমারত/অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। ঢাকা মহানগর ইমারত বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী নির্মাণকাজ শুরুর ১৫ দিন আগে ৩০৭ নম্বর ফরমের মাধ্যমে রাজউককে অবহিত করার বিধান থাকলেও তা করা হয়নি বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া নির্মাণকাজের সমর্থনে রাজউক অনুমোদিত নকশা ও অনুমোদনপত্র সাইটে সংরক্ষণ না করা এবং ভবনের দৃশ্যমান স্থানে অনুমোদিত নকশা ও নির্মাণসংক্রান্ত তথ্য সম্বলিত সাইনবোর্ড না থাকার বিষয়টিও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

নোটিশে ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২-এর ৩ ধারা অনুযায়ী নির্মাণাধীন ভবনটি কেন অবৈধ ঘোষণা করে অপসারণের আদেশ দেওয়া হবে না, সে বিষয়ে সাত দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সাইটে সব ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

রাজউকের পক্ষ থেকে নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হলেও সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে নির্মাণকাজ অব্যাহত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, রাজউকের নিষেধাজ্ঞার পরও ওই প্লটে বাড়ি নির্মাণের কাজ চলছে।

এদিকে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার বিষয়টি তদারকির দায়িত্বে থাকা রাজউকের পরিদর্শক আব্দুল আলিমের বিরুদ্ধে স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ উঠেছে, তিনি অনৈতিক সুবিধা নিয়ে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছেন।

তবে পরিদর্শক আব্দুল আলিম এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রতিদিন গিয়ে তো দেখা সম্ভব নয়। অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে তিনি তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।

অন্যদিকে, মিসেস সামিরার বক্তব্য নেওয়ার জন্য ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।