১৮ আগস্ট, ২০২৬
নওগাঁর আত্রাই উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের ডাঙ্গাঁপাড়া গ্রামে সাপের ছোবলে মোছা. ইরানি বিবি (৫০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি ওই গ্রামের আক্তার হোসেনের স্ত্রী।
নিহতের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, গতকাল (১৬ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে রান্না করার সময় মাচা থেকে খড়ি নিয়ে চুলায় আগুন ধরানোর সময় ইরানি বিবিকে সাপে ছোবল দেয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের লোকজন দ্রুত তাকে আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
পরিবারের অভিযোগ, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর কিছুটা সময়ক্ষেপণ করা হয় এবং রোগীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে তারা অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিলেও এক আত্মীয়ের পরামর্শে রাজশাহী মেডিকেলে না নিয়ে রাণীনগর উপজেলার ভাটকৈই গ্রামের এক কবিরাজের (ওঝা) কাছে নিয়ে যান।
কবিরাজ রোগীর অবস্থা দেখে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর আরেক আত্মীয়ের পরামর্শে আত্রাই উপজেলার আহসানগঞ্জ ইউনিয়নের বেওলা গ্রামের এক নারী কবিরাজের কাছে ইরানি বিবিকে নেওয়া হয়। সেখানে ওই কবিরাজও প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা করার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, সাপে কাটার পর দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণের পরিবর্তে কবিরাজের কাছে নেওয়ার সিদ্ধান্তই রোগীর মৃত্যুর অন্যতম কারণ। তাদের ভাষ্য, পরিবারের ভুল সিদ্ধান্ত ও চিকিৎসা নিতে বিলম্বের কারণে ইরানি বিবির মৃত্যু হয়েছে।
তবে আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক পরিবারের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রোগী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসার পর তার প্রাথমিক অবস্থা পর্যালোচনা করে যথাসাধ্য চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাকে দ্রুত Inj. Anti Snake Venom দেওয়া হয়। পরবর্তীতে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
চিকিৎসক আরও বলেন, পরে আমরা জানতে পারি, পরিবারের সদস্যরা রোগীকে রাজশাহী মেডিকেলে না নিয়ে কবিরাজের কাছে নিয়ে গেছেন। এতে গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট হয়েছে এবং সঠিক চিকিৎসা পেতে বিলম্ব হওয়ায় রোগীর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় শোকের পাশাপাশি সাপে কাটার পর কবিরাজের কাছে না গিয়ে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বিষয়টি নিয়ে আত্রাই থানা পুলিশ সূত্র জানায়, এ ঘটনায় এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।