২২ আগস্ট, ২০২৬
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলায় গুরুতর আহত আমিন উল্যাহ হাওলাদার (৮৪) নামের এক বৃদ্ধ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
এর আগে, গত ১২ আগস্ট সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের ভাটিরটেক গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মো. আমিন উল্যাহ উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের ভাটিরটেক গ্রামের মৃত মজু মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১২ আগস্ট সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ির সামনে নিজের দখলে থাকা জমিতে ধান চাষ করতে গেলে প্রতিপক্ষের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন আমিন উল্যাহ হাওলাদার ও তার পরিবারের সদস্যরা। এসময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আমিন উল্যাহসহ পরিবারের ৮ জন সদস্য গুরুতর আহত হন।
পরে আহত আমিন উল্যাহ হাওলাদার এবং তার দুই ছেলে আনোয়ার হোসেন ও জাকের হোসেনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় আমিন উল্যাহ হাওলাদার ও আনোয়ার হোসেনকে ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার বিকেলে আমিন উল্যাহ হাওলাদারের মৃত্যু হয়।
আহত জাকের হোসেন বলেন, পৈতৃক সম্পত্তিতে কয়েক যুগ ধরে তারা চাষাবাদ করে আসছেন।
সম্প্রতি স্থানীয় অন্য একটি পক্ষ ওই জমি নিজেদের দাবি করে দখলের চেষ্টা চালায়। এ নিয়ে মামলাও চলমান। তবে জমিতে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। গত ১২ আগস্ট অন্যান্য বছরের মতো রোপা আমন ধানের চারা লাগাতে গেলে প্রতিপক্ষের একরাম (৫০), আহছান উল্যাহ (৪৫), ইয়াকুব (৩৫), ফয়েজ উল্যাহ (৪২), সিরাজ (৪১), সালাউদ্দিন খোকন (৫২), ইসমাইল (২৫), আফসার (২৪), সাহাব উদ্দিনসহ (৪০) ৩০/৪০ ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের নিয়ে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আমাদের পরিবারের ৮ জন সদস্যকে গুরুতর আহত করে।
সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের ঘটনায় সংঘর্ষে আহত আমিন উল্যাহ হাওলাদার ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
তিনি জানান, দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে এবং উভয় পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে। নিহতের পক্ষের দায়ের করা মামলায় ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। বিবাদী পক্ষের এক ব্যক্তিও মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন।