২২ আগস্ট, ২০২৬
ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র নদে গত বছরের পর এবারও ইলিশ ধরা পড়েছে। গত বছর বর্ষায় ঈশ্বরগঞ্জের মরিচারচর এলাকায় জেলেদের জালে ইলিশ ধরা পড়েছিল।
এ বছরও একই এলাকায় ইলিশ ধরা পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল তৈরি হলেও মৎস্যবিজ্ঞানীরা বলছেন, ঘটনাটি একেবারে বিরল নয়। খাদ্যের সন্ধান, পানির স্রোত, লবণাক্ততা এড়ানোসহ বিভিন্ন কারণে কিছু জাটকা ও ইলিশ উজানের নদীতে অবস্থান করতে পারে।
ইলিশ সমুদ্রের মাছ।
ডিম ছাড়ার সময় হলে সাধারণত নদীতে আসে। ডিম ফুটে জাটকার রূপ নেওয়ার পর সেগুলো আবার সমুদ্রে ফিরে যায়। বাংলাদেশে ইলিশ প্রধানত পদ্মা, মেঘনা, আড়িয়াল খাঁ ও তেঁতুলিয়া নদীতে ডিম ছাড়ে। তবে ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র নদেও জেলেদের জালে ইলিশ ধরা পড়েছে।
গত বছর বর্ষাকালে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের মরিচারচর গ্রামের ব্রহ্মপুত্র নদে জেলের জালে একটি ইলিশ ধরা পড়ে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এ বছরও একই গ্রামের জেলেদের জালে ইলিশ ধরা পড়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে মরিচারচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটলে তা আবারও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ব্রহ্মপুত্রে ইলিশ ধরা পড়ায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
কেন ইলিশ ব্রহ্মপুত্রে আসছে, তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।
ঈশ্বরগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ফেরদৌস টিটু বলেন, গত বছরও একাধিকবার ব্রহ্মপুত্রে মরিচারচর গ্রামের জেলেদের জালে একাধিক ইলিশ ধরা পড়ে। খবর পেয়ে জানালে তিনি সেসব ইলিশ দেখতে যান। তাঁর ভাষ্য, ব্রহ্মপুত্রের ইলিশ পদ্মা বা মেঘনার ইলিশের মতো পরিপুষ্ট হয় না। খেতেও স্বাভাবিক ইলিশের মতো লাগে না। তবে ধরা পড়া মাছগুলো ইলিশ—এটি নিশ্চিতভাবে বলা যায়।
ব্রহ্মপুত্রে ইলিশ ধরা পড়ার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিস্ময় থাকলেও মৎস্যবিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি খুব বিরল ঘটনা নয়। হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক ডিন প্রফেসর ড. ইমরান পারভেজ বলেন, সাম্প্রতিক গবেষণা এবং মাঠ পর্যায়ের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, কিশোর জাটকা ও ডিম ছাড়ার পর পূর্ণবয়স্ক কিছু ইলিশ উজানের নদীতেও অবস্থান করছে।
ড. ইমরান পারভেজ আরো বলেন, ইলিশের অভিযোজন ক্ষমতা রয়েছে। লবণাক্ত পানি ছাড়াও ব্রহ্মপুত্র নদের পানিতে ইলিশ বেঁচে থাকতে পারে। তবে এসব ইলিশের ডিম ছাড়ার সক্ষমতা থাকে না।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, খাদ্যের সন্ধান, অতিরিক্ত লবণাক্ততা এড়ানো, পানির স্রোতের ধরন, শিকারির হাত থেকে রক্ষা এবং জীবনচক্রের আংশিক ভিন্নতার কারণে জাটকা ইলিশ মাঝেমধ্যে সমুদ্রে না গিয়ে উজানের নদীতে অবস্থান করে। দলবদ্ধভাবে চলার সময় কিছু ইলিশ দলছুট হয়ে পড়লেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) সাবেক মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ বলেন, ইলিশ সাধারণত প্ল্যাংকটনজাতীয় খাবার খায়। ব্রহ্মপুত্র নদে প্ল্যাংকটনজাতীয় খাবার পর্যাপ্ত পাওয়া যায় না। এ ছাড়া ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে বালু উত্তোলনের কারণেও প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। প্রধানত এ দুটি কারণে ব্রহ্মপুত্রে আসার পর ইলিশ খাদ্যসংকটে পড়ে।
ড. ইয়াহিয়া মাহমুদের মতে, খাদ্যসংকটের কারণে ইলিশের স্বাস্থ্যের বিকৃতি ঘটে। এ কারণে এসব ইলিশ দেখতে যেমন স্বাভাবিক ইলিশের মতো হয় না, তেমনি খেতেও স্বাভাবিক ইলিশের মতো লাগে না।