খোয়াই নদীর বাঁধে ফের ভাঙন: প্লাবিত ১৫ গ্রাম, ব্যাপক ক্ষতির শঙ্কা

২৪ আগস্ট, ২০২৬

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নে খোয়াই নদীর কালীগঞ্জ বাঁধে দেড় মাসের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে অন্তত ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। লোকালয়ে পানি প্রবেশ করায় বাড়িঘর, ফসল ও শাকসবজির ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। প্রথম দফায় বাঁধ ভেঙে ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আবারও ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষক, খামারি ও সবজি চাষিরা।

রবিবার (২৩ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে খোয়াই নদীর কালীগঞ্জ অংশে বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। এরপর চরহামুয়া, লস্করপুর, সুঘর, বনগাঁও, বনদক্ষিণ ও যমুনাবাদসহ আশপাশের অন্তত ১৫টি গ্রামে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রামের সড়ক, ফসলি জমি ও সবজি বাগান তলিয়ে যায়। এছাড়া ধুলিয়াখাল-মিরপুর সড়কেও পানি উঠে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।

তবে সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেল নাগাদ উজানের পানির প্রবাহ কমে আসায় ভাঙনস্থল দিয়ে নতুন করে তেমন পানি প্রবেশ করছে না। এরই মধ্যে প্লাবিত গ্রামের পানি হাওর ও নিচু এলাকায় প্রবেশ করছে।

এর আগে, গত ৯ জুলাই রাতে একই বাঁধ ভেঙে অন্তত ৩৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছিল। সে সময় মাছের ঘের, ফসলি জমি, ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট তলিয়ে গিয়ে শত কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েন ওই এলাকার বাসিন্দারা। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করে। তবে কাজে ধীরগতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী।

তাদের অভিযোগ, বাঁধ সংস্কারের কাজে অনিয়ম ও ধীরগতির কারণেই আবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে। ফলে দ্বিতীয় দফায় ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে তাদের। স্থানীয়রা বলছেন, এবার হাওরে সদ্য রোপণ করা আমন ধানের বেশি ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া শাকসবজি ও বীজতলারও ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।

জানা গেছে, দেশের অভ্যন্তরে তেমন বৃষ্টিপাত না হলেও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে গত কয়েক দিন ধরে প্রচুর বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এতে উজান থেকে প্রবল বেগে পানি খোয়াই নদী দিয়ে আসতে শুরু করে। একপর্যায়ে রবিবার বেলা ১১টার দিকে পানির প্রবল চাপে খোয়াই নদীর কালীগঞ্জ অংশের বাঁধ ভেঙে যায়। এরপর দ্রুতগতিতে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করতে থাকে। এতে চরহামুয়া, লস্করপুর, সুঘর, বনগাঁও, বনদক্ষিণ ও যমুনাবাদসহ আশপাশের অন্তত ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়।

হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, গত ৯ জুলাই বাঁধটি ভেঙে যাওয়ার পর ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে মেরামতের কাজ শুরু করা হয়। দীর্ঘ ৪৩ দিন অতিবাহিত হলেও কাজ শেষ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কাজে ধীরগতি ও অনিয়মের কারণেই নদীতে পানি আসার সঙ্গে সঙ্গে বাঁধটি পুনরায় ভেঙে গেছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইদুর রহমান বলেন, ভারতের ত্রিপুরায় প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারণে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করে। অল্প সময়ের মধ্যেই খোয়াই নদীতে পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় বাঁধটি ভেঙে গেছে। পানি কমলে দ্রুত সময়ের মধ্যে বাঁধ মেরামতের চেষ্টা করা হবে। তিনি বলেন, ‘এখন পানি অনেকটাই কমে গেছে। আশা করছি, দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।’

হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, প্রাথমিক হিসাবে ১২৫ হেক্টর আউশ ধান, ২২ হেক্টর রোপা আমনের বীজতলা এবং ২৫ হেক্টর শাকসবজির ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া প্রায় এক হাজার কৃষক রোপা আমন ধান চাষ করেছিলেন। তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তবে এখনো ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে। পানি কমে গেলে ক্ষতির পরিমাণ আরও স্পষ্ট হবে।