ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আইন অনুসরনের জন্য হাইকোর্টের নির্দেশ

২৫ আগস্ট, ২০২৬

বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজ আইন, ২০২২-এর বিধান অনুযায়ী প্রত্যেক বেসরকারি মেডিকেল কলেজ বা ডেন্টাল কলেজের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পরিচালনা পর্ষদ গঠনের বিধান রয়েছে (ধারা ১৮)। উক্ত ধারার উপধারা সমূহে পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ও অনান্য সদস্যদের সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ আছে। প্রথম উপ-ধারাতে উল্লেখিত আছে যে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ বা ডেন্টাল কলেজ যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সেই পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়ের বিধি-বিধান অনুসারে পরিচালনা পর্ষদ গঠিত হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা ইউনিভার্সিটি অর্ডার, ১৯৭৩-এর ৩৮ অনুচ্ছেদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক অনুমোদিত উপাদানকল্প কলেজ/ইন্সটিটিউট পরিচালনার জন্য সিন্ডিকেট কর্তৃক ২৭-০১-২০১০ তারিখে অনুমোদিত গভর্নিং বডি গঠনের নীতিমালা অনুসরন করতে চাচ্ছে। বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজ আইন ২০২২-অনুযায়ী প্রত্যেক বেসরকারি মেডিকেল কলেজ বা ডেন্টাল কলেজকে সংশ্লিষ্ট কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বা পাবলিক মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হওয়া বাধ্যতামূলক (ধারা ১৩)। বেসরকারি মেডিকেল কলেজ বা ডেন্টাল কলেজের আসন সংখ্যা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপারিশ প্রয়োজনীয় (ধারা ১৪ (২))। ফলে বেসরকারি মেডিকেল/ডেন্টাল কলেজ সমূহ অধিভুক্ত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের যথেষ্ট নিয়ন্ত্রাধীন। এমতাবস্থায় ২০২২-এর আইন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা সাংঘর্ষিক হওয়ায় এক জটিল ও বিব্রতকর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭-০১-২০১০ তারিখে সিন্ডিকেট অনুমোদিত গভর্নিং বডি গঠনের নীতিমালা অনুযায়ী গভর্নিং বডি ১৫ সদস্যের, পক্ষান্তরে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজ আইন ২০২২ অনুযায়ী পরিচালনা পর্ষদ ৭ জনের। বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী চেয়ারম্যান হবেন উপাচার্য কর্তৃক মনোনীত, পক্ষান্তরে ২০২২ আইন অনুযায়ী চেয়ারম্যান উদ্যোক্তাদের মধ্য হতে নির্বাচিত হবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী সদস্যদের মাঝে ৫ জন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক মনোনীত, কিন্তু ২০২২ আইন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি ১ জন। ২০২২ আইন অনুযায়ী স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ১ জন প্রতিনিধি থাকার কথা, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় নীতিমালা অনুযায়ী এ রকম বিধান নাই। ২০২২ আইন অনুযায়ী পরিচালনা পর্ষদে উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে ৫০ শতাংশ সদস্য থাকার বিধানের জায়গায় বিশ্ববিদ্যালয় নীতিমালা অনুযায়ী উদ্যোক্তাদের প্রতিনিধি ৩ জন (প্রতিষ্ঠাতা, পৃষ্ঠ পোষক ও দাতা) যা ১৫ সদস্যের পর্ষদে ২০ শতাংশ মাত্র।

এ প্রেক্ষিতে বেসরকারি শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে রীট পিটিশন দায়ের করে (নং ১২৪৭১/২০২৫) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আদেশ ১৯৭৩-এর ৩৮ অনুচ্ছেদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭-০১-২০১০ তারিখে সিন্ডিকেট অনুমোদিত নীতিমালার যে সকল অংশ ২০২২ আইনের সাথে পরিচালনা পর্ষদ গঠনের ব্যাপারে সাংঘর্ষিক তা চ্যালেঞ্জ করে। গত ২৪ আগষ্ট ২০২৬-এ মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. ইকবাল কবির ও বিচারপতি এস.এম সাইফুল ইসলাম সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে শুনানী সমাপনান্তে রায় প্রদান করেন যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আদেশ ১৯৭৩ এর ৩৮ অনুচ্ছেদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭-০১-২০১০ তারিখে সিন্ডিকেট অনুমোদিত নীতিমালার যে সকল অংশ বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজ আইন ২০২২ এর পরিচালনা পর্ষদ গঠনের সাথে সাংঘর্ষিক তা বেআইনী ও আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভুত।  মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নির্দেশ প্রদান করেন যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ সমূহের পরিচালনা পর্ষদ গঠনের ক্ষেত্রে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজ আইনের ১৮ ধারা অনুসরন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালন পর্ষদ গঠনের বিধান গ্রহণ করবেন। সংশ্লিষ্ট আইনজীবির প্রত্যায়নপত্রে এ তথ্য জানা যায়, যেটি স্বাক্ষর করেছেন ড. কামাল হোসেন ও এসোসিয়েটস্ এর পক্ষে সুপ্রীম কোর্টের এ্যাডভোকেট মো. সাইফুল আলম চৌধুরী।