ক্যাম্পাস সুরক্ষায় কৌশলগত প্ল্যান নেওয়া হচ্ছে: ইবি উপাচার্য

২৬ আগস্ট, ২০২৬

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ কে এম মতিনুর রহমান বলেছেন, “ক্যাম্পাসের সার্বিক সুরক্ষায় আমাদের শর্ট, মিড ও লং-টার্ম স্ট্র্যাটেজিক কিছু প্ল্যান নেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে সহিংসতা, র‍্যাগিং ও যৌন নিপীড়নমুক্ত নিরাপদ ক্যাম্পাস গঠনে অগ্রাধিকার দিচ্ছি।”

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের কনফারেন্স রুমে সাংবাদিকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ইদ্রিস আলী, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতি, প্রেসক্লাব ও রিপোটার্স ইউনিটিতে কর্মরত সাংবাদিকরা।

উপাচার্য অধ্যাপক মতিনুর রহমান বলেন, “একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম এক্সিলেন্ট হতে হলে সেখানে ক্যাম্পাসের স্থিতিশীলতা লাগবে। যে কোনো উন্নয়নের প্রথম পূর্বশর্তই হচ্ছে স্থিতিশীলতা। দেশের জন্য যা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও তা। ক্যাম্পাস নিরাপদ রাখতে র‍্যাগিং মুক্ত, যৌন নিপীড়ন, যৌন হয়রানি মুক্ত এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরনের কাউন্সিলিং করা, সেই বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরো বলেন, “শিক্ষার্থীদের ভর্তি থেকে শুরু করে সার্টিফিকেট অর্জন পর্যন্ত সকল সেবা এক প্ল্যাটফর্মে আনতে গভর্নমেন্ট নিজে থেকে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হচ্ছে ডিজিটাল আইডি ‘Edu-ID’। স্মার্ট ক্লাসরুম, ডিজিটাল লাইব্রেরি ও ডিজিটাল প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে তৈরি হবে একটি সমন্বিত লার্নিং ইকোসিস্টেম। শিক্ষা ও প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়াতে এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তির বিকাশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশন যুক্ত করা হবে।”

নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য বলেন, “গভর্নমেন্ট থেকে ডিজিটাল আইডি ‘ইডিইউ- আইডি চালুর বিষয়ে উদ্যোগ নিলেও তা সময় সাপেক্ষ। তবে আমরা তাৎক্ষণিক যেটা করবো তা হলো- শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিটি হল ও বিভাগীয় আইডি থাকার বিষয়টি নির্দেশনা দেব। এছাড়া, এমপ্লোয়িদের জন্য আইডি দেওয়ার ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করছি।”

তিনি আরো বলেন, “আমরা পুরো ক্যাম্পাসকে সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত করার জন্য আইসিটি প্রসিডিউর অলরেডি শেষ করেছি। পাশাপাশি লাইটিংয়ের জন্য উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা আনসারদের জন্য ভবন, থাকার জন্য সুন্দর পরিবেশ ও তাদের রান্নাবান্নার ব্যবস্থা রেখেছি। আগামী মাসে কিছু আনসার সংযোজন পাব।”

এছাড়া, মতবিনিময়কালে উপাচার্য গ্র্যাজুয়েটদের কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন ও চাহিদাকেন্দ্রিক শিক্ষা, বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষাক্রম প্রণয়ন, শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় শিল্প খাত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যক্ষ মেলবন্ধন, ডিজিটাল রূপান্তর, ইকোসিস্টেম ও এআই ইন্টিগ্রেশনে শিক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ, শিক্ষক উন্নয়ন, গবেষণা উৎকর্ষ ও আন্তর্জাতিকীকরণে  মানসম্মত গবেষণা এবং বিশ্বমানের শিক্ষক তৈরি, সুশাসন, মান নিশ্চিতকরণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে পূর্ণ স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার বিষয়গুলো তুলে ধরেন।