২৬ আগস্ট, ২০২৬
চুলে রং করা এখন সাজসজ্জার জনপ্রিয় একটি অংশ। চকোলেট ব্রাউন, ক্যারামেল, বারগান্ডি থেকে শুরু করে সবুজ, নীল ও বেগুনি—পছন্দ অনুযায়ী নানা রঙে চুল সাজাচ্ছেন তরুণ-তরুণীরা।
তবে রং করার পর সঠিক যত্ন না নিলে চুল হয়ে উঠতে পারে শুষ্ক, রুক্ষ, ভঙ্গুর ও ফ্রিজি। তাই চুলে রং করার পর কিভাবে যত্ন নেবেন, কোন ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন এবং কী ধরনের সমস্যা হতে পারে—জেনে নেওয়া জরুরি।
চুলের বাইরের আবরণ বা কিউটিকলের ওপর রাসায়নিক রঙের প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে কালো বা গাঢ় চুলকে অনেকটা হালকা করে উজ্জ্বল সবুজ, নীল, বেগুনি বা স্বর্ণালি রং করতে হলে অনেক সময় আগে চুল ব্লিচ করতে হয়।
এতে চুলের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে গিয়ে শুষ্কতা, রুক্ষতা, আগা ফাটা ও চুল ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে।
তবে সব রঙে ক্ষতির মাত্রা এক নয়। চুলে রং কতটা হালকা করা হয়েছে, কতবার রং বা ব্লিচ করা হয়েছে এবং রং করার আগে চুলের অবস্থা কেমন ছিল—এসবের ওপর ক্ষতির মাত্রা নির্ভর করে।
রং করার পর চুল বারবার ধোয়া ঠিক নয়।
অতিরিক্ত শ্যাম্পু করলে রং দ্রুত ফিকে হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি চুলের স্বাভাবিক আর্দ্রতাও কমে যেতে পারে।
চুল ধোয়ার সময় মাথার ত্বক পরিষ্কার করার দিকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। চুলের লম্বা অংশে অতিরিক্ত ঘষাঘষি করা উচিত নয়।
রং করা চুলের যত্নে কন্ডিশনার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবার শ্যাম্পু করার পর চুলের মাঝামাঝি অংশ থেকে আগা পর্যন্ত কন্ডিশনার ব্যবহার করলে চুল তুলনামূলকভাবে নরম ও সহজে আঁচড়ানো যায়।
চুল খুব শুষ্ক হলে সপ্তাহে একবার গভীরভাবে আর্দ্রতা দেওয়ার মাস্ক ব্যবহার করা যেতে পারে।
রং করার পর চুল বেশি ফ্রিজি হলে—
চুল সোজা বা কোঁকড়ানোর যন্ত্র, অতিরিক্ত গরম হেয়ার ড্রায়ার এবং অন্যান্য তাপ ব্যবহারকারী যন্ত্র রঙ করা চুলকে আরো শুষ্ক ও দুর্বল করতে পারে। বিশেষ করে ব্লিচ করা চুলে এর প্রভাব বেশি হতে পারে।
তাই এসব যন্ত্রের ব্যবহার যতটা সম্ভব কমানো এবং ব্যবহার করতে হলে তাপ থেকে সুরক্ষার জন্য উপযুক্ত প্রসাধনী ব্যবহার করা ভালো।
চুল রং করার পর অতিরিক্ত শুষ্ক মনে হলে সপ্তাহে একবার গভীর কন্ডিশনিং বা চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখার মাস্ক ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এসব পণ্য রাসায়নিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত চুলকে পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেয়—এমনটা ভাবা ঠিক নয়।
চুলের আগা বেশি ফেটে গেলে নিয়মিত সামান্য করে ছেঁটে নেওয়াও উপকারী।
অতিরিক্ত রোদে রঙ করা চুল আরো শুষ্ক হয়ে যেতে পারে এবং চুলের রং দ্রুত ফিকে হতে পারে। তাই দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে ওড়না, স্কার্ফ, টুপি বা অন্যভাবে চুলকে অতিরিক্ত রোদ থেকে আড়াল করা যেতে পারে।
সুইমিংপুলের পানিতে থাকা ক্লোরিন রং করা চুলের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। সাঁতার কাটার পর দ্রুত পরিষ্কার পানি দিয়ে চুল ধুয়ে নেওয়া উচিত। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করা যেতে পারে।
রং করার পর কিছু ভুল চুলের ক্ষতি বাড়িয়ে দিতে পারে। যেমন—
চুল রুক্ষ, শুষ্ক ও ভঙ্গুর হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি কিছু মানুষের ক্ষেত্রে রঙের রাসায়নিক থেকে মাথার ত্বকে অস্বস্তি বা অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
রং করার পর মাথার ত্বকে অতিরিক্ত চুলকানি, জ্বালাপোড়া, লালচে ভাব, ফুসকুড়ি বা ফুলে যাওয়ার মতো সমস্যা হলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। রং ব্যবহারের আগে পণ্যের নির্দেশনা অনুযায়ী অ্যালার্জি পরীক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ।
সবুজ, নীল বা বেগুনির মতো উজ্জ্বল রং গাঢ় চুলে সরাসরি কাঙ্ক্ষিত উজ্জ্বলতা নাও দিতে পারে। ফলে অনেক সময় আগে চুল ব্লিচ করে হালকা করতে হয়। আর এই ব্লিচিংয়ের কারণেই চুলের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়তে পারে।
তাই উজ্জ্বল রং করার আগে শুধু রঙটি দেখতে কেমন হবে তা নয়, রং কতটা হালকা করতে হবে এবং পরে কতটা যত্ন প্রয়োজন হবে—সেটিও বিবেচনা করা জরুরি।
চুল যদি আগে থেকেই খুব শুষ্ক, ভঙ্গুর, অতিরিক্ত রুক্ষ বা রাসায়নিক ব্যবহারে দুর্বল হয়ে থাকে, তাহলে নতুন করে রং বা ব্লিচ করার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো। দুর্বল চুলে নতুন রাসায়নিক প্রয়োগ করলে চুল ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি আরো বাড়তে পারে।
চুলে পছন্দের রং করলেই যত্ন শেষ নয়; বরং এরপরই শুরু হয় আসল পরিচর্যা। নিয়মিত কন্ডিশনার, প্রয়োজন অনুযায়ী চুলের মাস্ক, কম তাপ ব্যবহার, আলতোভাবে চুল আঁচড়ানো, অতিরিক্ত রোদ থেকে সুরক্ষা এবং ঘন ঘন রাসায়নিক ব্যবহার এড়িয়ে চলা—এসব অভ্যাস রঙ করা চুলকে তুলনামূলকভাবে নরম, মসৃণ ও স্বাস্থ্যকর রাখতে সাহায্য করতে পারে।
রং যতই সুন্দর হোক, চুলের স্বাস্থ্য ঠিক না থাকলে সেই সৌন্দর্য বেশিদিন থাকে না। তাই চুলে রং করার আগে যেমন রং বেছে নেওয়া জরুরি, তেমনি রং করার পর সঠিক যত্ন নেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।