০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
পাউরুটি, রুটি, ডিম ভাজা, স্যুপ কিংবা স্যান্ডউইচের মতো খাবারের স্বাদ বাড়াতে মাখনের ব্যবহার বেশ পরিচিত।বাজারে সাধারণত যে মাখন পাওয়া যায়, তার রং হয় হালকা হলুদ। একে টেবল বাটার বা ইয়েলো বাটার বলা হয়।
অন্যদিকে সাদা মাখন অনেকেই বাড়িতে তৈরি করে খান। তবে স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করলে সাদা ও হলুদ মাখনের মধ্যে কোনটি বেশি উপকারী, তা নিয়ে অনেকেরই কৌতূহল রয়েছে।
হলুদ মাখন কি স্বাস্থ্যকর?
হলুদ মাখন তৈরির সময় অনেক ক্ষেত্রেই লবণ যোগ করা হয়। এতে মাখনের স্বাদ বাড়ে এবং সংরক্ষণও সহজ হয়। তবে অতিরিক্ত লবণযুক্ত মাখন নিয়মিত বেশি পরিমাণে খেলে শরীরে সোডিয়ামের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ বিশেষভাবে এড়িয়ে চলা জরুরি।
এছাড়া মাখনে ক্যালরি ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ যথেষ্ট থাকে। ১ টেবিল চামচ মাখনে প্রায় ১০০ ক্যালরি থাকতে পারে। ফলে নিয়মিত বেশি পরিমাণে খেলে ওজন বাড়ার পাশাপাশি রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রার ওপরও প্রভাব পড়তে পারে। তাই হলুদ মাখন খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিমাণের দিকে নজর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
সাদা মাখন কতটা স্বাস্থ্যকর?
সাদা মাখন সাধারণত গরুর দুধের সর বা ক্রিম থেকে তৈরি করা হয়। বাড়িতে তৈরি করলে এতে আলাদা করে লবণ, রং বা অন্য কোনো উপাদান যোগ না করেও মাখন তৈরি করা সম্ভব। ফলে এটি তুলনামূলকভাবে কম প্রক্রিয়াজাত খাবার।
সাদা মাখনে হলুদ মাখনের মতোই চর্বি ও ক্যালরি রয়েছে। তাই সাদা মাখনকে পুরোপুরি ক্ষতিহীন খাবার ভাবা ঠিক নয়। তবে এতে অতিরিক্ত লবণ না থাকলে সোডিয়াম গ্রহণের দিক থেকে এটি সুবিধাজনক হতে পারে। মাখন তৈরির পর যে তরল অংশ পাওয়া যায়, সেটিই বাটারমিল্ক। এতে মাখনের তুলনায় কম চর্বি থাকে এবং এটি আলাদা একটি পুষ্টিকর পানীয় হিসেবে খাওয়া যায়।
সাদা মাখনে কী কী পুষ্টি রয়েছে?
দুধ থেকে তৈরি হওয়ায় সাদা মাখনে ভিটামিন এ-এর মতো কিছু ফ্যাট-দ্রবণীয় ভিটামিন পাওয়া যায়। তবে মাখনকে ভিটামিন, ক্যালসিয়াম বা আয়োডিনের প্রধান উৎস হিসেবে ধরা ঠিক নয়। এসব পুষ্টি পেতে দুধ, দই, মাছ, ডিম, শাকসবজি ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা জরুরি।
অনেকেই মনে করেন সাদা মাখনের ফ্যাট হার্ট ও ত্বকের জন্য উপকারী। কিন্তু মাখনে থাকা স্যাচুরেটেড ফ্যাটের কারণে অতিরিক্ত খাওয়া হৃদস্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। তাই সাদা মাখনও পরিমিত খাওয়াই সবচেয়ে ভালো।
দিনে কতটা সাদা মাখন খাওয়া যায়?
স্বাস্থ্যকর মনে করে কোনো খাবারই অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয়। সাদা মাখনেও যথেষ্ট ক্যালরি রয়েছে। তাই দিনে প্রায় ১০-১৫ গ্রাম বা এক থেকে দেড় টেবিল চামচের মধ্যে রাখাই ভালো।
যাদের কোলেস্টেরল, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ বা ওজন নিয়ন্ত্রণের সমস্যা রয়েছে, তাদের মাখন খাওয়ার পরিমাণ নিয়ে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
তাই সাদা মাখন হোক কিংবা হলুদ মাখন-স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কতটা খাচ্ছেন।