২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওঠানামা এবং নিজ নিজ দেশের সরকারি নিয়মের কারণে এশিয়ার এক এক দেশে জ্বালানি তেলের দাম এখন এক এক রকম। আন্তর্জাতিক বাজারে তেল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘গ্লোবাল পেট্রোল প্রাইসেস’-এর সর্বশেষ তথ্য থেকে এশিয়ার প্রধান দেশগুলোর তেলের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে এই প্রতিবেদন।
তেলের দাম সবচেয়ে কম মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোতে। ইরানে সরকারি বিশাল ভর্তুকির কারণে সবচেয়ে কম দামে তেল পাওয়া যাচ্ছে। সেখানে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম মাত্র ১,২১০ ইরানি রিয়াল, যা মার্কিন ডলারে হিসাব করলে মাত্র ৩ সেন্ট থেকে ৩৬ সেন্টের মতো। আরেক প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশ সৌদি আরবে প্রতি লিটার তেলের জন্য দিতে হচ্ছে ২.৩১ সৌদি রিয়াল, যা প্রায় ৫৪ থেকে ৬২ সেন্টের সমান।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতেও রয়েছে তেলের দামে কিছুটা ভিন্নতা। মালয়েশিয়ায় সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে সরকার তেলের দামে অর্থ সাহায্য দিয়ে থাকে। ফলে সেখানে প্রতি লিটার তেল পাওয়া যাচ্ছে ৪.৩৮ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিতে, যা ডলারে ৫০ থেকে ৯৪ সেন্টের মতো। আর ইন্দোনেশিয়ায় প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ১৬,৬৯৯ ইন্দোনেশিয়ান রুপিয়া, যা প্রায় ৮২ সেন্ট।
অন্যদিকে যেসকল দেশ তেল আমদানির ওপর নির্ভর করে কিংবা তেলের ওপর বেশি কর বসায়, সেখানে দাম তুলনামূলক বেশি। জাপানে প্রতি লিটার পেট্রোলের গড় দাম ১৭২ জাপানি ইয়েন, যা মার্কিন ডলারে ৯৫ সেন্ট থেকে ১.০৬ ডলার।
চীনে প্রতি লিটার তেলের জন্য খরচ করতে হচ্ছে ৮.৬১ ইউয়ান বা ৯৯ সেন্ট থেকে ১.১২ ডলার। ভারতে লিটারপ্রতি গড় দাম পড়ে ১০৭ রুপি, যা প্রায় ৯৮ সেন্ট থেকে ১.০৭ ডলার। আর থাইল্যান্ডে প্রতি লিটার তেলের দাম গিয়ে ঠেকেছে ৪৮.১০ থাই বাতে, যা প্রায় ১.০৩ থেকে ১.২৬ ডলার।
এদিকে বাংলাদেশে বর্তমানে পেট্রোল প্রতি লিটার ১৬০ টাকা এবং অকটেন প্রতি লিটার ১৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে (ডলারের হিসাবে প্রায় ১.৩০ থেকে ১.৩৪ ডলার)।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে দেশগুলো নিজেদের তেল উৎপাদন করে কিংবা জনগণের জন্য তেলের দামে ভর্তুকি দেয়, সেখানে জ্বালানি তেল বেশ সস্তা। কিন্তু বাংলাদেশ, ভারত বা জাপানের মতো যেসব দেশকে বিদেশ থেকে তেল কিনে আনতে হয় এবং সরকার তেলের ওপর শুল্ক আরোপ করে, সেখানকার সাধারণ মানুষকে বেশি দামে তেল কিনতে হচ্ছে।
সূত্র: গ্লোবাল পেট্রোল প্রাইসেস।