হরমুজ বাইপাস পাইপলাইনের পরিকল্পনা বাতিল করল কাতার

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে গ্যাস পরিবহনের জন্য কোনো বিকল্প পাইপলাইন নির্মাণের পরিকল্পনা পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে কাতার।দেশটির জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রী ও কাতার এনার্জির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাদ শেরিদা আল-কাব্বি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি বাইপাস করে পাইপলাইন তৈরি করা অর্থনৈতিক ও কারিগরি কোনো দিক থেকেই যুক্তিযুক্ত নয়। এর পাশাপাশি, সার্বিক অর্থনৈতিক কৌশল পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে কাতার তাদের সার্বভৌম তহবিল ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম চালুর পাশাপাশি ৬০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের বিনিয়োগ প্রস্তাবের ঘোষণা দিয়েছে।

জ্বালানি মন্ত্রী সাদ শেরিদা আল-কাব্বি স্পষ্ট করেন যে প্রতিবেশী দেশগুলো বিকল্প রুট হিসেবে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহারের প্রস্তাব দিলেও প্রাকৃতিক গ্যাস সাধারণ পাইপলাইনে সহজে বহনযোগ্য নয়।

অন্য প্রান্তে গ্যাস নিয়ে পুনরায় তরলীকরণের (এলএনজি) জন্য অবকাঠামো নির্মাণ করতে গেলে তা কাতারের নর্থ ফিল্ড সম্প্রসারণ প্রকল্পের অধীনে নির্মিত বৃহৎ কেন্দ্রগুলোরই অপ্রয়োজনীয় পুনরাবৃত্তি ঘটাবে, যা আর্থিক বিবেচনায় কোনো অর্থ বহন করে না।

মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের সাম্প্রতিক একটি মন্তব্যেরও সরাসরি জবাব দেন আল-কাব্বি। বেসেন্ট দাবি করেছিলেন, দুই বছরের মধ্যে হরমুজ প্রণালি তার গুরুত্ব হারিয়ে মূল্যহীন হয়ে পড়তে পারে। তবে আল-কাব্বি একে সম্পূর্ণ ভুল আখ্যা দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালি কেবল জ্বালানি পরিবহনের কেন্দ্র নয় বরং এটি বৈশ্বিক বাণিজ্যের অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট।

কাতারের ঐতিহাসিক ‘নর্থ ফিল্ড’ সম্প্রসারণ প্রকল্পের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটির এলএনজি উৎপাদন ক্ষমতা বছরে ৭৭ মিলিয়ন টন থেকে বাড়িয়ে ১৪২ মিলিয়ন টনে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক উত্তেজনার ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় নর্থ ফিল্ড ইস্ট প্রকল্পের প্রথম উৎপাদন ইউনিটের কাজ কিছুটা পিছিয়ে এখন ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে হরমুজ প্রণালির সংঘাতের ফলে রাস লাফানের দুটি উৎপাদন ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কাতারের রফতানি ক্ষমতা প্রায় ১৭ শতাংশ কমে যায়, যার সংস্কার কাজে তিন বছর সময় লাগবে। একই সাথে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

এমতাবস্থায় অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি জোরদার ও বহুমুখী করার লক্ষ্যে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ‘কাতার ইকোনমিক ফোরাম’-এর বিশেষ অধিবেশনে নতুন অর্থনৈতিক রোডম্যাপ প্রকাশ করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান আল থানি। তিনি ‘দোহা ইনভেস্টমেন্ট’ নামে একটি নতুন বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্ল্যাটফর্মের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং আগামী পাঁচ বছরে অবকাঠামো, রিয়েল এস্টেট ও আতিথেয়তা খাতে ৬০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের প্রকল্প ও বিনিয়োগের সুযোগের কথা জানান।

কাতার ইনভেস্টমেন্ট অথরিটির (কিউআইএ) অধীনে থাকা প্রায় ৪৫টি দেশীয় প্রতিষ্ঠান ও সামগ্রিক সম্পদ তালিকার এক-তৃতীয়াংশ পরিচালনা করবে এই ‘দোহা ইনভেস্টমেন্ট’। সংস্থাটির পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্বে থাকবেন বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রী শেখ ফয়সাল বিন থানি আল থানি।

কাতার এয়ারওয়েজ, কিউএনবি গ্রুপ, ওরেডু, কাতারি দিয়ারের মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো এই কাঠামোর অধীনে থেকে উন্নত প্রযুক্তি, উৎপাদন, সরবরাহ শৃঙ্খল ও স্বাস্থ্যসেবা খাতের মতো উদীয়মান ক্ষেত্রগুলোতে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যক্তিমালিকানাধীন বিনিয়োগ বাড়াতে কাজ করবে।