২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বুকে তীব্র ব্যথা, হঠাৎ পড়ে যাওয়া—হার্ট অ্যাটাক বলতেই অনেকের চোখে এমন দৃশ্য ভেসে ওঠে। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাক সব সময় এতটা স্পষ্ট নাও হতে পারে। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে এমন হয়। হঠাৎ মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব কিংবা ঠাণ্ডা ঘামকেও অনেক সময় গ্যাস, দুর্বলতা, মানসিক চাপ বা সাধারণ অসুস্থতা ভেবে এড়িয়ে যাওয়া হয়। অথচ কিছু ক্ষেত্রে এগুলো হতে পারে হৃদরোগের সতর্কসংকেত।
নারীদের হার্ট অ্যাটাকের এমন চারটি তুলনামূলক কম পরিচিত লক্ষণের কথা জানিয়েছেন চিকিৎসক ডা. কুনাল সুদ।
এক ভিডিওতে তিনি এসব উপসর্গের বিষয়ে সতর্ক করেন।
হার্ট অ্যাটাকের পরিচিত লক্ষণগুলোর একটি হলো বুকের মাঝখানে ব্যথা, চাপ বা অস্বস্তি। এটি সব সময় তীব্র ব্যথা নাও হতে পারে। বুক চেপে ধরা, ভারী লাগা কিংবা পূর্ণতার মতো অনুভূতিও হতে পারে।
হার্টের সমস্যা হলে ব্যথা বুকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে এমনটা নয়। নারীদের ক্ষেত্রে চোয়াল, ঘাড়, এক বা দুই হাত, পিঠ এমনকি পেটেও অস্বস্তি বা ব্যথা দেখা দিতে পারে। ফলে অনেকেই এটিকে অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার লক্ষণ মনে করতে পারেন।
কাজের চাপ বা পরিশ্রমের কারণে শ্বাসকষ্ট হওয়া স্বাভাবিক মনে হতে পারে। কিন্তু হঠাৎ শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, বিশেষ করে অন্য কোনো উপসর্গের সঙ্গে দেখা দিলে, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
বুকব্যথা ছাড়াও শ্বাসকষ্ট হার্ট অ্যাটাকের সঙ্গে দেখা দিতে পারে।
হঠাৎ ঠান্ডা ঘাম, বমি বমি ভাব, বমি বা মাথা ঝিমঝিম করার মতো অনুভূতিও নারীদের হার্ট অ্যাটাকের সঙ্গে দেখা দিতে পারে। এসব উপসর্গ অনেক সময় ফ্লু, গ্যাস্ট্রিক, মানসিক চাপ কিংবা সাধারণ দুর্বলতা বলে মনে হতে পারে।
ডা. কুনাল সুদের মতে, উপসর্গগুলো হঠাৎ শুরু হলে বিশেষভাবে সতর্ক হওয়া জরুরি। কারণ নারীদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ অনেক সময় সূক্ষ্ম হতে পারে। তবে এসব উপসর্গ দেখা দিলেই যে হার্ট অ্যাটাক হয়েছে, এমন নয়। একই ধরনের লক্ষণ অন্য অনেক কারণেও হতে পারে। কিন্তু হঠাৎ বা তীব্র উপসর্গ দেখা দিলে, বিশেষ করে একাধিক লক্ষণ একসঙ্গে থাকলে, দেরি না করে জরুরি চিকিৎসা নেয়াই ভালো।