২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বুকে ব্যথা বা অস্বস্তি হলে স্বাভাবিকভাবেই অ্যাসিডিটি, গ্যাস বা হজমের সমস্যা ভেবে থাকেন সবাই। যদিও পাচনতন্ত্রের সমস্যা সাধারণ বিষয়, কিন্তু প্রতিবার বুকের ব্যথাকে ‘গ্যাস’ ভেবে এড়িয়ে যাওয়া হলে মারাত্মক বিপদ হতে পারে।
হার্ট অ্যাটাক বা হৃদরোগ সংক্রান্ত লক্ষণগুলোর সঙ্গে অ্যাসিডিটির লক্ষণের অবশ্য কিছুটা মিল থাকতে পারে। এ জন্য লক্ষণগুলো বুঝতে পারা জরুরি। খবর হিন্দুস্তান টাইমস
হার্ট অ্যাটাক বা কার্ডিয়াক ইমারজেন্সি পরিস্থিতিতে সতর্কতামূলক লক্ষণগুলো বুঝতে পারা এবং সময়মতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার বিকল্প নেই। এ ব্যাপারে কিছু পরামর্শ জানিয়েছেন ভারতের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট এবং কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান ডা. সুনীল কুমার মণ্ডল।
কেন হার্ট অ্যাটাকের ব্যথা অ্যাসিডিটি মনে হতে পারে
ডা. সুনীল কুমার জানিয়েছেন, হৃদযন্ত্র ও পরিপাকতন্ত্রের ওপরের অংশ একে অপরের খুব কাছাকাছি এবং এদের স্নায়ুপথও প্রায় এক। এ কারণে হৃদযন্ত্রে রক্ত প্রবাহ কমে গেলে সবসময় বুকে ব্যথা বা চাপ সৃষ্টি হবে, তা নয়। কখনো কখনো বুকের মাঝখানে চাপ ধরে থাকা, ভারী লাগা, জ্বালাপোড়া করা, আঁটসাঁট ভাব বা স্বাভাবিকের থেকে আলাদা এক অস্বস্তি অনুভব হতে পারে―এসব লক্ষণগুলোকে সহজেই হজমের সমস্যা ভেবে কেউ কেউ ভুল করে থাকেন।
বিপজ্জনক সংকেতগুলো অবহেলা করা ঠিক নয়
ডা. সুনীল কুমার বলেন, বুকের ব্যথা চাপ অনুভব হলে, মোচড় দেয়া, ভারী অনুভূত হওয়া বা আঁটসাঁট হওয়ার মতো মনে হলে, বিশেষ করে তা কয়েক মিনিটের বেশি সময় ধরে স্থায়ী হলে, বারবার ফিরে এলে বা কোনো শারীরিক পরিশ্রম বা মানসিক চাপের সময় হলে তা উদ্বেগের বিষয়।
বুক ব্যথা যদি বাম বা উভয় হাত, পিঠের ওপরের অংশ বা কাঁধের মাঝামাঝি, ঘাড় বা চোয়ালের দিকে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে হৃদরোগের সন্দেহ আরও জোরালো হয়।
ব্যথার সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য উপসর্গগুলোও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বুকে অস্বস্তির পাশাপাশি শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম হওয়া, বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া, মাথা ঘোরা, অস্বাভাবিক দুর্বলতা অনুভূতি হলে সময় নষ্ট না করে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।
এ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ বলেন, হার্ট অ্যাটাক সবসময় নির্দিষ্ট ধরন অনুযায়ী হয় না। নারী, প্রবীণ ব্যক্তি এবং ডায়াবেটিসের রোগীদের ক্ষেত্রে অল্প বা সূক্ষ্ম কিছু উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
যেমন, কারণ ছাড়াই শ্বাসকষ্ট হওয়া, চরম ক্লান্তি, বমি বমি ভাব, পেটের ওপরের অংশে অস্বস্তি বা পিঠ ও চোয়ালে ব্যথা হতে পারে। অর্থাৎ, অনেক সময় বুকে তীব্র ব্যথা ছাড়াও হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।
গ্যাস্ট্রিক নাকি হার্ট অ্যাটাকের ব্যথা―নিশ্চিত হওয়ার উপায় আছে কি
ডা. সুনীল কুমার বলেন, দুর্ভাগ্যবশত বাসা-বাড়িতে বসে পরীক্ষা করে শতভাগ নিশ্চিত হওয়ার কোনো উপায় নেই। অ্যাসিড রিফ্লাক্স সাধারণত খাওয়ার পর বা শুয়ে থাকার সময় জ্বালাপোড়ার অনুভূতি তৈরি করে। সঙ্গে মুখে টক স্বাদ বা ঢেকুরের সঙ্গে খাবার উঠে আসার মতো হতে পারে। এসব লক্ষণ থাকলেও নিশ্চিতভাবে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না। কারণ, অনেকেই খুবই সাধারণ একটি ভুল করেন, এন্টাসিড জাতীয় ওষুধ সেবনের পর স্বস্তি মিললে ধরে নেন, এটি গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা ছিল। কিন্তু হার্ট অ্যাটাকের মতো ঘটনার সময়ও লক্ষণগুলো সাময়িক সময়ের জন্য ওঠানামা করতে পারে। এ জন্য সতর্কতামূলক চিহ্ন বা হৃদরোগের ঝুঁকি থাকলে সাময়িক স্বস্তিতে থাকা বা নিরাপদ থাকা ভাবা ঠিক নয়।
কারা সতর্ক থাকবেন
ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা, ধূমপানের অভ্যাস, আগে থেকে থাকা হৃদরোগ বা পরিবারে অল্প বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার ক্ষেত্রে কালক্ষেপণ করা উচিত নয়। বর্তমান যুগে একাধিক ঝুঁকি থাকা তুলনামূলক কম বয়সীদের মধ্যেও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ছে। এ জন্য শুধু বয়সের কথা না ভেবে আশঙ্কাজনক উপসর্গগুলোকে গুরুত্বরভাবে নিতে হবে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেয়ার কথাও জানিয়েছেন ডা. সুনীল কুমার।