২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
দীর্ঘ ১৯ বছর পর ফের সবুজ গালিচায় মুখোমুখি দুই দেশ। কিন্তু বল গড়ানোর আগেই ময়দান উত্তপ্ত।
সৌজন্যে, আন্তর্জাতিক রাজনীতি। আসন্ন উয়েফা নেশনস লিগের জোড়া ম্যাচে মুখোমুখি আয়ারল্যান্ড-ইসরায়েল। আর এই খেলা ঘিরেই দানা বেঁধেছে তীব্র বিতর্ক। গাজা-ইসরায়েল যুদ্ধের জেরে আয়ারল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে ম্যাচ বয়কটের ডাক দেওয়া হয়েছে।
অনিশ্চয়তার মেঘ কিছুটা কাটলেও, দুই শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ ক্রমশ চড়ছে।
দ্য ওয়ালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত রবিবার হাঙ্গেরির ডেব্রেসেনে প্রথম লড়াই। আর ৪ অক্টোবর সার্বিয়ার বাকা টোপোলায় দ্বিতীয় সাক্ষাৎ। আয়ারল্যান্ডের প্রধান কোচ হেইমির হলগ্রিমসনের মন্তব্যে বিতর্কের আগুনে ঘি পড়েছে।
তিনি সম্প্রতি বলেন, ‘আমরা ইসরায়েলের সঙ্গে নয়, আমরা গণহত্যার বিরুদ্ধে খেলছি।’
এরপরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।
গত ফেব্রুয়ারিতে নেশনস লিগের ড্র ঘোষণার পর থেকে অস্বস্তি শুরু। গ্রুপ বি-থ্রি-তে কসোভো এবং অস্ট্রিয়ার পাশাপাশি ইসরায়েলকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পায় আয়ারল্যান্ড। মাসচারেক আগে প্যালেস্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সম্মতি ছাড়া ইসরায়েলের টুর্নামেন্ট আয়োজনের তীব্র বিরোধিতা করেছিল আইরিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।
উয়েফার কাছে ইসরায়েলকে নিষিদ্ধ করার দাবিও পেশ করে তারা। মে মাসে ডাবলিনে কাতারের বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচে আইরিশ সমর্থকরা প্যালেস্টাইনের পতাকা সংবলিত টেনিস বল মাঠে ছুড়ে প্রতিবাদ জানায়।
গত প্রায় তিন বছর ধরে প্যালেস্টাইনীয়দের সমর্থন জানিয়ে আসছে আয়ারল্যান্ড সরকার। ২০২৪ সালে প্যালেস্টাইনকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতিও দেয় তারা। গাজায় যুদ্ধের জেরে দেশের প্রধানমন্ত্রী ইসরায়েলকে ‘গণহত্যা’র দায়ে অভিযুক্ত করেছিলেন। এই প্রবল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দুই দেশের ফুটবল ম্যাচ বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে।
খেলা বাতিলের দাবি তুলেছিলেন আয়ারল্যান্ডের ১৬০ জনের বেশি ক্রীড়াবিদ। আইরিশ দলের প্রাক্তন তারকা ফুটবলার কেভিন কিলবানে স্পষ্ট জানান, ‘গণহত্যা চলাকালীন ইসরায়েলের সঙ্গে খেলা উচিত নয়।’
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও উয়েফাকে একহাত নিয়েছে। তবে বয়কট করলে উয়েফার কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে। মূলত সেই আশঙ্কায় শেষমেশ ভোটাভুটির মাধ্যমে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নেয় আয়ারল্যান্ড।
প্রবল জনরোষের আশঙ্কায় আইরিশদের ঘরের মাঠ ডাবলিনে এই ম্যাচ আয়োজন করা কার্যত অসম্ভব ছিল। তাই বিকল্প ভেন্যু হিসেবে সার্বিয়ার বাকা টোপোলাকে বেছে নেওয়া হয়। অন্যদিকে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইসরায়েলের ‘অস্থায়ী হোম ভেন্যু’ হয়ে উঠেছে হাঙ্গেরি। সে দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবান ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ। তাই আগামী রবিবার ডেব্রেসেনেই বল গড়াবে। খেলা হবে। তবে ফুটবল সেখানে উপলক্ষ মাত্র।