২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
আগামী বুধবার থেকে ইরানের সব বিমান সংস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। তেহরানের এয়ারলাইনসগুলোকে সেবা দেওয়া চালিয়ে গেলে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছে ওয়াশিংটন।
খবর আল জাজিরা
বেসেন্ট সতর্ক করে বলেন, ‘ইরানের বিমান নামলে তাদের জ্বালানি দেওয়া যাবে না, ল্যান্ডিং বা অবতরণ সেবা দেওয়া যাবে না এবং তাদের টিকিটও বিক্রি করা যাবে না। অন্যথায়, আপনাদের যুক্তরাষ্ট্রের ডলার লেনদেন ব্যবস্থা থেকে বের করে দেওয়া হবে।’
ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপের অংশ হিসেবে নতুন এই হুমকি দেওয়া হলো। চলতি মাসের শুরুর দিকে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় পূর্বে নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকা সব ইরানি এয়ারলাইনসের পাশাপাশি তাদের বিমান খাতকে সহায়তার অভিযোগে একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
বছরের পর বছর ধরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে এমনিতেই ইরানের বিমান চলাচল খাত মারাত্মক সংকটে রয়েছে। এসব নিষেধাজ্ঞার ফলে এয়ারলাইনসগুলোর পক্ষে নতুন বিমান কেনা এবং খুচরা যন্ত্রাংশ ও রক্ষণাবেক্ষণ সেবা পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছিল।
ইরানকে আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে নেওয়া অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার অংশ হিসেবে নতুন এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। যুক্তরাষ্ট্রের এই পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞার আওতায় জ্বালানি, নৌপরিবহন, প্রযুক্তি, স্বর্ণ এবং ডিজিটাল সম্পদসহ বিভিন্ন খাতে ইরানের সঙ্গে লেনদেনকারী বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে শাস্তির মুখোমুখি করার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
আগামী বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের নির্ধারিত বৈঠকের আগে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন পদক্ষেপের কথা জানালেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী। ইরানের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক সহযোগী ও কূটনৈতিক মিত্র হিসেবে পরিচিত বেইজিং। ফলে তেহরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে চীনের সহযোগিতা মার্কিনিদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
বেসেন্ট জানান, যুক্তরাষ্ট্রের এই নিষেধাজ্ঞার প্রক্রিয়ায় চীনের কর্মকর্তারা ‘পুরোপুরি যুক্ত’ রয়েছেন। ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অনুসরণের বিষয়ে পিপলস ব্যাংক অব চায়নার গভর্নর প্যান গংশেংসহ চীনের শীর্ষ অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিবাচক আলোচনা চলছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
যদিও চীনের পক্ষ থেকে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি। চীন বরাবরই বলে এসেছে, ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে তারা জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেবে। একই সঙ্গে দেশটি কোনো দেশের বিরুদ্ধে এককভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপেরও প্রকাশ্যে বিরোধিতা করে এসেছে।