মেঘনায় ৩ স্কুলছাত্রের মৃত্যু, বাল্কহেড ঘিরে নানা প্রশ্ন; আটক ৪

২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মেঘনার পানিতে তিন কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘিরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে শোকের পাশাপাশি নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নদীতে গোসলের সময় বাল্কহেডের ইঞ্জিন চালু হওয়া, সৃষ্ট পানির ঘূর্ণি ও স্রোতের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের তলিয়ে যাওয়ার ঘটনার পর ‘এমবি সোনারগাঁ মদিনা-৪’ নামের একটি বাল্কহেডসহ চারজনকে আটক করেছে নৌপুলিশ।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার বৈদ্যেরবাজার এলাকা থেকে বাল্কহেডটির সুকানি, গ্রিজার ও দুই লস্করকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন- সুকানি মো. হাবিবুর রহমান (৪৫), গ্রিজার মো. আবু জাফর (৩৫), লস্কর এবাদুল হাওলাদার (২৫) ও মো. সিফাত (১৯)। বাল্কহেডটি মেসার্স রনি এন্টারপ্রাইজের মালিকানাধীন।

নিহত তিন শিক্ষার্থী হলো- মোগরাপাড়া এইচ জি জি এস স্মৃতি সরকারি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও যমজ ভাই আরেফিন আহমেদ (১৫) ও আশেকিন আহমেদ (১৫) এবং একই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবিদ হোসেন (১৪)।

রবিবার দুপুরে পিরোজপুর ইউনিয়নের ভাটি বন্দরের কাছে মেঘনা নদীতে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ হয় তিন শিক্ষার্থী। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে যমজ দুই ভাই আরেফিন ও আশেকিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উদ্ধার করা হয় আবিদ হোসেনের মরদেহ।

বৈদ্যেরবাজার নৌপুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক রুহুল আমিন জানান, নদীর পাড়ে থেমে থাকা বাল্কহেডটির কাছে শিক্ষার্থীরা গোসল করছিল। একপর্যায়ে বাল্কহেডের ইঞ্জিন চালু হলে পানিতে তীব্র স্রোত ও ঘূর্ণির সৃষ্টি হয়। এ সময় স্থানীয় এক নারী একজন শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও অপর তিনজন পানিতে তলিয়ে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের সহকারী উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাল্কহেডের চালু থাকা পাখার সঙ্গে ধাক্কা লেগে শিক্ষার্থীরা পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের বক্তব্যে অবশ্য ভিন্ন তথ্যও পাওয়া গেছে। তাদের দাবি, শিক্ষার্থীরা বাল্কহেডে উঠে সেখান থেকে নদীতে লাফিয়ে গোসল করছিল। এ সময় হঠাৎ বাল্কহেডের ইঞ্জিন চালু করা হয়। এতে পানিতে প্রবল ঘূর্ণি সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি ইঞ্জিনের পাখার আঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়। স্থানীয়রা দ্রুত ইঞ্জিন বন্ধ করার অনুরোধ জানালেও সংশ্লিষ্টরা তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেননি এবং উদ্ধারে এগিয়ে আসেননি বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

এ ঘটনায় নিহত দুই যমজ ভাইয়ের বাবা মোহাম্মদ ফারুক বাদী হয়ে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছে নৌপুলিশ। এদিকে ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার সকালে নিহত তিন শিক্ষার্থীর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সকাল ১০টার দিকে বাড়ি মজলিশ হাফেজিয়া মাদ্রাসা মাঠে জানাজা শেষে স্থানীয় সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয় আরেফিন ও আশেকিনের মরদেহ। অপর শিক্ষার্থী আবিদ হোসেনের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি খুলনায় নিয়ে দাফন করা হয়েছে।

একসঙ্গে তিন স্কুলছাত্রের এমন মৃত্যুতে মোগরাপাড়া ও আশপাশের এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একই সঙ্গে নদীতে বাল্কহেড চলাচল, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং দুর্ঘটনার সময় সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব পালনে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।