☰
✕

ইরানি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট স্থগিত করলো আমিরাত-ওমান

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার জেরে এবার সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) তেহরানের সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রাখা তৃতীয় দেশের কোম্পানিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়ে মার্কিন নীতির পরিবর্তনের এটিই প্রথম বড় প্রভাব।

উপসাগরীয় অঞ্চলের বৃহত্তম ভ্রমণ কেন্দ্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘জেনারেল সিভিল এভিয়েশন অথরিটি’ জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের নতুন নীতির কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর সব ফ্লাইট স্থগিত করছে।

ইরানের আধা সরকারি সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, ওমান, জর্জিয়া, আজারবাইজান এবং ইরাকের রাজধানী বাগদাদের উদ্দেশ্যে পরিচালিত ফ্লাইটগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি আরও জানায়, কর্তৃপক্ষ ইরাকের আরেকটি বিমানবন্দর নাজাফ এর দিকে ফ্লাইটগুলোর গতিপথ পরিবর্তনের জন্য কাজ করছে। এর আগে ২৩ সেপ্টেম্বরের যেসব বৈশ্বিক কোম্পানি ইরানি এয়ারলাইন্সের সাথে ব্যবসা করবে, তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

বৃহস্পতিবার তেহরানের ইমাম খোমেনি বিমানবন্দরে আফগানিস্তান, আর্মেনিয়া, চীন, ইরাক, পাকিস্তান, তাজিকিস্তান ও তুরস্কের মতো দেশগুলোর সাথে নির্ধারিত ফ্লাইট ওঠানামার তালিকা দেখা গেছে। কিন্তু নিকটবর্তী উপসাগরীয় দেশগুলোর যাদের সাথে ইরানের দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক ও ভ্রমণ সম্পর্ক রয়েছে তাদের সাথে কোনো ফ্লাইটের তালিকা দেখা যায়নি।

ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশিত আকাশপথের অবরোধ কার্যকর করা হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। বুধবার দেশটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হুমকি দিয়েছেন, ওয়াশিংটনের এই নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা কোনো আঞ্চলিক দেশের বিমানবন্দরগুলোকে ‘ব্যবহারের অযোগ্য’ করে দেওয়া হবে।

গত ৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট ইরানের বিমান চলাচল খাতের সাথে সংশ্লিষ্ট ৩৬টি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞার অংশ হিসেবে ২৭টি ইরানি এয়ারলাইনসের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানি বাণিজ্যিক এয়ারলাইনসগুলো অস্ত্র ও কর্মী পরিবহনে এবং বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা এড়াতে দেশটিকে সহায়তা করার কাজে ব্যবহৃত হয়েছে।

অন্যদিকে তেহরান এই পদক্ষেপগুলোকে দেশটির ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর প্রচারণার অংশ হিসেবে অভিহিত করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, এই নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে ইরানের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে।

সূত্র: দ্য জেরুসালেম পোস্ট, গাল্ফ নিউজ।