☰
✕

আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের দৌড়ে সাতক্ষীরার দুই তরুণ

০১ অক্টোবর, ২০২৬

শিশুদের অধিকার রক্ষা, জলবায়ু, ন্যায়বিচার ও শিক্ষার প্রসারে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার-২০২৬-এর জন্য সাতক্ষীরার দুই তরুণ সমাজকর্মী সুদীপ্ত দেবনাথ (১৭) ও মুশফিক উর রহমান (১৭) মনোনীত হয়েছেন। শিশুদের নোবেল হিসেবে পরিচিত এ পুরস্কারের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিশু ও তরুণদের মধ্য থেকে তাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

সুদীপ্ত দেবনাথ ও মুশফিক উর রহমান দুজনই সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। এসএসসি পাসের পর তারা একই কলেজে পড়াশোনা করছেন। সুদীপ্ত শহরের মাস্টারপাড়ার যামিনী কুমার দেবনাথ ও সেজুতি দেবনাথ দম্পতির সন্তান। মুশফিক শহরের মুনজিতপুর এলাকার সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জ্বল ও বারছাতুন নেছা দম্পতির সন্তান।

নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামে অবস্থিত শিশু সহায়তা ও অ্যাডভোকেসি সংস্থা কিডসরাইটস ফাউন্ডেশন প্রতিবছর শিশুদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা শিশু ও তরুণদের আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেয়।

সুদীপ্ত ও মুশফিক গত চার বছর ধরে উপকূলীয় এলাকায় শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করছেন। বাল্যবিয়ে, শিশুশ্রম ও শিক্ষা বঞ্চনার মতো সমস্যার বিরুদ্ধে তারা বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। গ্রাম পর্যায়ে কাজের পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও শিশু অধিকার নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন তারা।

তাদের উদ্যোগে একাধিক বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ হয়েছে বলে জানান তারা। পাশাপাশি শিশুদের শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে পরিবার ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করছেন।

শিশু অধিকার বিষয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে ওয়েবিনার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা ও ডিজিটাল ক্যাম্পেইন পরিচালনা করেছেন সুদীপ্ত ও মুশফিক। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশু সুরক্ষা, অনলাইন নিরাপত্তা ও শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে কর্মশালা ও সম্প্রদায়ভিত্তিক বিভিন্ন কার্যক্রমও পরিচালনা করছেন তারা।

মনোনয়ন পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে সুদীপ্ত দেবনাথ বলেন, আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়ে আমি ভীষণ আনন্দিত। শিশুদের নিয়ে কাজ করতে ভালো লাগে আমার। ভবিষ্যতে আরও ব্যাপকভাবে শিশুদের নিয়ে কাজ করতে চাই।

মুশফিক উর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারে মনোনীত হতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। শিশুদের নিয়ে আরও উদ্যমে কাজ করতে চাই।