০১ অক্টোবর, ২০২৬
ভারতের কিছু ক্যাফেতে ভারতীয় ও অন্য দেশের পর্যটকদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ করেছেন ভারতীয় অধিকারকর্মী ও শিক্ষাবিদ শ্রীষ্টি খান্না।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, ইসরায়েলি পর্যটকদের জন্য ভারতের কিছু জনপ্রিয় এলাকায় এমন ক্যাফে রয়েছে, যেখানে শুধু ইসরায়েলিদেরই প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।
ভারতে ইসরায়েলি পর্যটকদের যেসব জনপ্রিয় ভ্রমণকেন্দ্র রয়েছে, সেগুলোকে অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘হামুস ট্রেইল’ বলা হয়।
শ্রীষ্টি খান্নার দাবি, এসব এলাকায় কিছু ক্যাফে, রেভ পার্টি ও অনুষ্ঠানে আগে থেকেই ভারতীয়দের ঢুকতে দেওয়া হতো না। এখন সেটি আরও বেড়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু জায়গায় শুধু ভারতীয় নয়, অন্য বিদেশি পর্যটকদেরও প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। খান্না বলেন, এসব জায়গায় এক ধরনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতার শ্রেণিবিন্যাস তৈরি হয়েছে।
তার অভিযোগ, এর মাধ্যমে ভারতীয়রা নিজেদের দেশেই বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।
Indians can't enter these cafes in their own country because Israelis have banned them. pic.twitter.com/TNJI2JFpuP — AJ+ (@ajplus) September 29, 2026
কী এই ‘হামুস ট্রেইল’
ভারতে ইসরায়েলি তরুণ পর্যটকদের জনপ্রিয় ভ্রমণকেন্দ্রগুলোকে ‘হামুস ট্রেইল’ নামে অভিহিত করা হয়। এর মধ্যে হিমাচল প্রদেশের কাসোল, ধরমকোট, তোশ ও পার্বতী উপত্যকার বিভিন্ন এলাকা রয়েছে।
এ ছাড়া লাদাখ, গোয়া, গোকর্ণ, পুষ্কর ও দক্ষিণ ভারতের কিছু এলাকাতেও ইসরায়েলি পর্যটকদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য।
এসব জায়গায় হিব্রু ভাষার সাইনবোর্ড, ইসরায়েলি খাবার এবং ইসরায়েলি পর্যটকদের উপযোগী ক্যাফে ও থাকার ব্যবস্থা দেখা যায়।
ইসরায়েলি তরুণদের অনেকেই সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক সেবা শেষ করার পর দীর্ঘ ভ্রমণে বের হন। ভারত তাদের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য।
আগেও উঠেছিল অভিযোগ
ইসরায়েলি পর্যটকদের জন্য জনপ্রিয় হিমাচল প্রদেশের কাসোলে ভারতীয়দের প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ নতুন নয়। ২০১৫ সালে ‘ফ্রি কাসোল’ নামে একটি ক্যাফেকে ঘিরে এমন অভিযোগ সামনে এসেছিল।
এক ব্রিটিশ পর্যটক দাবি করেছিলেন, তার ভারতীয় সঙ্গীকে ক্যাফেতে মেন্যু দেওয়া হয়নি। তবে তাকে মেন্যু দেওয়া হয়েছিল।
তখন ক্যাফে কর্তৃপক্ষ ‘মেম্বারস অনলি’ নীতির কথা জানিয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়েও আলোচনা ও তদন্তের উদ্যোগ হয়েছিল।
‘ইসরায়েলি জাতিবিদ্বেষ’
শ্রীষ্টি খান্না এসব অভিযোগকে আরও বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেখেছেন। তিনি দাবি করেন, ভারতীয়দের জন্য এক ধরনের আলাদা নিয়ম এবং ইসরায়েলি পর্যটকদের জন্য আরেক ধরনের নিয়ম তৈরি হয়েছে।
একে তিনি ‘ইসরায়েলি জাতিবিদ্বেষ’ বলে অভিহিত করেন।
ভারত-ইসরায়েল সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন
শ্রীষ্টি খান্না এসব ঘটনার সঙ্গে ভারতের বর্তমান সরকারের ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টিও যুক্ত করেছেন।
তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সমালোচনা করেন। তিনি হিন্দুত্ব ও ইহুদিবাদের মধ্যেও তুলনা টানেন।
ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডেরও কঠোর সমালোচনা করেন তিনি।