০১ অক্টোবর, ২০২৬
বিদেশ থেকে দেড় লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত লবণ আমদানির অনুমোদন দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সরকারের এ সিদ্ধান্তে কক্সবাজারের কুতুবদিয়ার প্রান্তিক লবণ চাষিদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, বিদেশি লবণ দেশে এলে উৎপাদিত লবণের ন্যায্যমূল্য পাওয়া কঠিন হবে।
বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে লবণ আমদানির অনুমোদনের তথ্য জানানো হয়। চাষিরা বলছেন, ন্যায্যমূল্যের আশায় গত বছর তারা আগের বছরের তুলনায় বেশি জমিতে লবণ চাষ করেছেন। এখনো অনেকের লবণ মাঠে পড়ে আছে। কেউ কেউ লবণ বিক্রি করলেও কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না। এর মধ্যে আমদানি করা হলে দেশীয় লবণের দাম আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কুতুবদিয়ায় ৬ হাজার ৭৫৫ একর জমিতে লবণ চাষ হয়। স্থানীয় চাষিদের উৎপাদিত প্রায় ৬৩ হাজার মেট্রিক টন লবণ এখনো মাঠে পড়ে আছে। এর মধ্যে গত বছরের প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন লবণও রয়েছে। আগামী নভেম্বর থেকে উপজেলায় আবার পুরোদমে লবণ উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
উত্তর ধূরুং ইউনিয়নের নেজাম উদ্দিন নাজু ও মাহমুদুল করিম, লেমশীখালী ইউনিয়নের মো. আজম ও মঞ্জুর আলম এবং কৈয়ারবিল ইউনিয়নের নাছির উদ্দিনসহ কয়েকজন চাষি বলেন, গত বছর তারা বেশি জমিতে লবণ চাষ করেছিলেন। কিন্তু উৎপাদন খরচও বেড়েছে। এখন বিদেশি লবণ আমদানি হলে উৎপাদিত লবণের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে তারা শঙ্কায় আছেন।
চাষিরা বলেন, বিদেশি লবণ আমদানির সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাই দেশীয় চাষি ও লবণশিল্পের স্বার্থে আমদানির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তারা।
বিসিক কক্সবাজার লবণ শিল্প উন্নয়ন প্রকল্পের মাঠ পরিদর্শক মো. ইদ্রীস আলী জানান, কক্সবাজারে বর্তমানে প্রায় ৩ লাখ ৯৮ হাজার ৬৪০ মেট্রিক টন লবণ মজুদ রয়েছে। এর মধ্যে গত মৌসুমে উৎপাদিত লবণের পরিমাণ ৩ লাখ ৭০ হাজার ৯৯০ মেট্রিক টন।
কুতুবদিয়ার অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি লবণশিল্প। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে বিদেশ থেকে লবণ আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ২৫১টি প্রতিষ্ঠানকে দেড় লাখ মেট্রিক টন লবণ আমদানির অনুমোদনের খবরে তাই দ্বীপের চাষি ও বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রয়োজন হলে বিদেশে লবণ রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হোক; আমদানি না করে স্থানীয় লবণশিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া হোক।