☰
✕

গড়াই নদীর তীব্র ভাঙনে ফসলি জমি বিলীন, হুমকিতে ৫০০ পরিবার

০২ অক্টোবর, ২০২৬

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার গড়াই নদীতে তীব্র ভাঙন শত শত পরিবার নিঃস্ব। তীব্র ভাঙনে নদীগর্ভে চলে গেছে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠিানসহ দশ একর আবাদি জমিরও বেশি এবং হুমকির মধ্যে রয়েছে নদীপাড়ের পাঁচশত পরিবারের বেশি। 

উপজেলার আমলসার ইউনিয়নের কোদলা গ্রামসহ কয়েক গ্রামে গড়াই নদীর তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনের ভাঙনে ইতোমধ্যে প্রায় ১০ একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় আরও অন্তত ২০ একর জমি ঝুঁকিতে রয়েছে। একই সঙ্গে হুমকির মুখে পড়েছে গ্রামের প্রতিরক্ষামূলক বেড়িবাঁধ।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বেড়িবাঁধের অবশিষ্ট অংশও নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। এতে অন্তত পাঁচশত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ার পাশাপাশি ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, কয়েক দিন ধরে গড়াই নদীর পাড়ে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। নদীর স্রোতে একের পর এক ফসলি জমি বিলীন হচ্ছে। এতে কৃষিনির্ভর পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে। অনেকেই চোখের সামনে বছরের পর বছর চাষ করা জমি নদীতে হারিয়ে যেতে দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা সালাম শেখ বলেন, ‘নদীর পাড়েই আমার বাড়ি, নদী পাড়েই আমার জন্ম। আগে কয়েকবার নদীতে বাড়ি ভেঙেছে। আর কোন জায়গা জমি নেই।  নদী ভাঙতে ভাঙতে এখন বেড়িবাঁধের কাছে চলে এসেছে। বাঁধ আর একটু ভাঙলেই আমাদের থাকার মতো কিছু থাকবে না।’

অনিতা রাণী বলেন, বিয়ের পর প্রায় ৩৫ বছর ধরে এই গ্রামে বসবাস করছি। এক নদী ছিল অনেক দূরে, ভাঙতে ভাঙতে নদী একন বেড়িবাধের কাছে চলে এসেছে। রাতে ঘুম হয় না ঠিকমত। সব সময় আতঙ্কের মধ্যে থাকি। সরকারের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি ভাঙন রোধে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে।  

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, গড়াই নদীর শ্রীপুরের কয়েকটি অংশে ভাঙন প্রতিরোধে জিও ব্যাগ ফেলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আমলসার-কোদলা এলাকায় নতুন করে ভাঙনের বিষয়টি জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও মাননীয় সংসদ সদস্যকে অবহিত করা হয়েছে।  

এ বিষয়ে মাগুরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সন্তোষ কর্মকার বলেন, আমলসার ইউনিয়নের বেশি ভাঙন কবলিত কোদলা এলাকায় নদী ভাঙনের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সেখানে নদী ভাঙনরোধ করার দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।