০২ অক্টোবর, ২০২৬
চার দশক পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে ৯ গোল হজম করেছে বাংলাদেশ। হামজা-সামিতের মতো খেলোয়াড় এবং বিশ্বকাপে অধিনায়কত্ব করা ডুলি কোচ হয়ে আসার পর এমন ফলাফল অনাকাঙ্ক্ষিতই বটে। ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে এমন বড় ব্যবধানে হারের পর তাই ফুটবলাঙ্গনে বিরাজ করছে গুমোট ভাব। এই বিপর্যয়ের দায় নিয়ে কোচ, ফুটবলার থেকে শুরু করে সামগ্রিক ফুটবল কাঠামো নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।
জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক ইমতিয়াজ সুলতান জনি যারপরনাই আহত গতকালের ফলাফলে। তিনি বলেন, ‘আমাদের বয়স হয়েছে অনেক। শেষ বয়সে এসে ফুটবলে নয় গোল খাওয়া দেখা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। কোচ, ফুটবলার নয়, শুধু সামগ্রিক সিস্টেমই এজন্য দায়ী। সালাউদ্দিন ভাই ১৬ বছর সময় পেয়েছেন, ফুটবল নিয়ে প্ল্যান করেননি সেভাবে। বর্তমান কমিটির দুই বছর হতে চলল, তাদেরও কোনো রোডম্যাপ নেই।’
জাতীয় দলের আরেক সাবেক তারকা ফুটবলার সৈয়দ রুম্মান বিন ওয়ালী সাব্বির বলেন, ‘জাপান, কোরিয়া, চীন নয়, ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে এমন ফলাফল মানা যায় না। ফুটবল ফেডারেশন ঘরোয়া ফুটবল ঠিকমতো পরিচালনা করতে পারছে না। লিগ শুরু করে আবার বন্ধ করল। প্রবাসী ফুটবলারের দিকে বেশি ঝুঁকছে, ঘরোয়া ফুটবলে মনোযোগ নেই। সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে এমন ফলাফল।’
জাতীয় দলের সাবেক কোচ মারুফুল হক এমন ফলাফল নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার জুলফিকার মাহমুদ মিন্টুও বিরক্ত। তিনিও এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে চাননি। তবে তাদের অনুজ জাহিদ হাসান এমিলি সরাসরি কোচকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে শুরু থেকে ওপেন প্লে খেলা ঠিক হয়নি। কোচের এই ম্যাচ ঘিরে কোনো পরিকল্পনা ছিল কি না, স্পষ্ট দৃশ্যমান হয়নি। ফুটবলাররাও তাদের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করতে পারেননি।’
জাতীয় দল কমিটির সদস্য না হয়েও প্রবাসী ফুটবলার ও জাতীয় দলের ম্যাচ নিয়ে মিডিয়ায় হাজির হতেন বাফুফের সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম। দলের বিপর্যয়ের পর মিডিয়ায় তাঁর প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল জাতীয় দল কমিটির চেয়ারম্যান। আসিয়ান কাপের ব্যর্থতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করছি। পরবর্তী জাতীয় দল কমিটির সভায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’