০৪ অক্টোবর, ২০২৬
হঠাৎ করেই শনিবার রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে আবুল হায়াতের মৃত্যুর ভুয়া খবর। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে দেশ-বিদেশে থাকা আত্মীয়স্বজন, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা একের পর এক ফোন করতে থাকেন।
কেউ কেউ আবার কান্নায়ও ভেঙে পড়েন। নিজের মৃত্যুর গুজবে বিরক্ত ও বিব্রত বর্ষীয়ান এই নির্মাতা-অভিনেতা।
রববার বিকেলে সংবাদমাধ্যমকে আবুল হায়াত জানিয়েছেন, তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। অভিনেতা বলেন, ‘আমি একদম ঠিক আছি।
গতকাল থেকে এমন খবর ছড়িয়েছে। প্রথমে বিষয়টি খুব একটা পাত্তা দিইনি। কিন্তু আজ দেখছি, এটা সীমা অতিক্রম করেছে। দেশ-বিদেশে থাকা আমার বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষী ও আত্মীয়স্বজনেরা একের পর এক ফোন করছেন।
কেউ কেউ তো কাঁদছিলেনও। বিষয়টি খুবই বিরক্তিকর এবং বিব্রতকর।’
৩ অক্টোবর রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট ও ভিডিওর মাধ্যমে আবুল হায়াতের মৃত্যুর গুজব ছড়ানো হয়। শুরুতে বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিলেও রবিবার গুজব আরো ছড়িয়ে পড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
পরিবারের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, তার মৃত্যুর খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
আবুল হায়াত সুস্থ ও স্বাভাবিক আছেন।
যারা এমন গুজব ছড়াচ্ছেন, তাদের উদ্দেশে ক্ষোভ জানিয়ে আবুল হায়াত বলেন, ‘যারা এসব খবর ছড়াচ্ছেন, তাদের প্রতি আমি খুবই বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ। একজন জীবিত মানুষকে এভাবে মেরে ফেলা যায় না। এর ফলে শুধু ওই মানুষটিই নয়, তার পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরাও ভীষণ কষ্ট পান।’
এর আগেও একাধিকবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আবুল হায়াতের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়েছে। প্রতিবারই এমন ঘটনায় ক্ষোভ ও কষ্টের কথা জানিয়েছেন তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা। তবে ভুয়া খবর বিশ্বাস করে স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের আতঙ্কিত হয়ে ফোন করার বিষয়টিই তাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয়।
১৯৬৯ সালে ‘ইডিপাস’ নাটকের মধ্য দিয়ে টেলিভিশনে অভিনয় শুরু করেন আবুল হায়াত। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে অসংখ্য চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি নির্মাণ ও লেখালেখিতেও সক্রিয় এই নাট্যজন। নাটক ও টেলিছবি নির্মাণের পাশাপাশি লিখেছেন উপন্যাস ও আত্মজীবনী। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, একুশে পদকসহ পেয়েছেন নানা সম্মাননা।