০৪ অক্টোবর, ২০২৬
অজুর ক্ষেত্রে অজুর অঙ্গগুলোতে পরিপূর্ণভাবে পানি পৌঁছানো বা ভেজানো আবশ্যক। অজুর মূল অঙ্গ ৪টি : চেহারা, হাত, পা, মাথা। মাথা মাসেহ করা ফরজ। আর বাকি তিন অঙ্গ ধোয়া ফরজ।
এ তিন অঙ্গের কোনো একটি স্থান শুকনো থাকলে অজু হবে না। অজুর শেষে যদি কোনো উপায়ে জানা যায়, এই তিন অঙ্গের কোথাও শুকনো রয়ে গেছে। তাহলে শুধু শুকনো জায়গা পানি দিয়ে ধুয়ে নিলেই হবে; নতুন অজু করতে হবে না।
আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে তিনি বলেন, এক সফরে রাসুল (সা.) আমাদের পেছনে রয়ে গেলেন। পরে তিনি আমাদের কাছে পৌঁছালেন, এদিকে আমরা (আসরের) নামাজ আদায় করতে দেরি করে ফেলেছিলাম এবং আমরা অজু করছিলাম। আমরা আমাদের পা কোনো মতে পানি দিয়ে ভিজিয়ে নিচ্ছিলাম। তখন তিনি উচ্চস্বরে বললেন, বা ‘পায়ের গোড়ালিগুলোর (শুষ্কতার) জন্য জাহান্নামের শাস্তি রয়েছে।’ তিনি দুই বার বা তিনবার এ কথা বললেন। (বুখারি, হাদিস: ৬০)
শরীরে রঙ লাগলে না উঠিয়ে অজু করা যাবে?
অজু বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য অজুর অঙ্গসমূহে পানি পৌঁছানো জরুরি। কারো শরীরে যদি রঙ লেগে থাকে এবং রঙের প্রলেপ যদি এমন হয় যে, এর কারণে অজুর কোনো একটি বা সামন্যতম স্থানে পানি না পৌঁছায়, তাহলে অজু হবে না।
কারণ, মহানবী (সা.) ত্বকে পানি পৌঁছাতে নির্দেশ দিয়েছেন। আনাস ইবনু মালেক (রা.) বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি অজু করে নবীজির (সা.) কাছে উপস্থিত হলো কিন্তু তার পায়ে নখ পরিমাণ জায়গা শুকনো ছিল। রাসুল (সা.) তাকে বললেন, ‘ফিরে যাও এবং উত্তমরূপে আবার অজু করে এসো (আবূ দাউদ, হাদিস: ৩৩২)।
তবে কেউ যদি রঙের বা রঙমিস্ত্রির কাজ করে, তাহলে যেহেতু এটা পেশা এবং নিয়মিতই তাকে রঙের কাজ করতে হয়। এমন ব্যক্তিদের পক্ষে পরিপূর্ণভাবে পরিষ্কার করাও কষ্টসাধ্য। তাই সাধারণভাবে পরিষ্কার করার পরও যদি তাদের হাতে-পায়ে কিছু রঙ লেগে থাকে তাহলে সে অবস্থায়ও তাদের অজু শুদ্ধ হয়ে যাবে।