☰
✕

উত্তরাঞ্চলে আগাম আমন কাটা শুরু, শীতকালীন ফসলে লাভের স্বপ্ন কৃষকের

০৬ অক্টোবর, ২০২৬

উত্তরাঞ্চলে আগাম জাতের আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। আগাম আমন কাটার পর জমি প্রস্তুত করা হচ্ছে শীতকালীন আগাম শাক-সবজি ও অন্যান্য ফসল চাষের জন্য। ধান কাটা শুরু হওয়ায় কৃষকের ঘরে ঘরে চলছে উৎসবের আমেজ। তবে সার, ডিজেল, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বাড়ায় এবার আমন চাষে বিঘাপ্রতি উৎপাদন খরচ বেড়েছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা। এতে ফলন আশানুরূপ হলেও লাভ নিয়ে কিছুটা হতাশ কৃষকেরা।

কৃষকেরা জানান, সাধারণ আমন ধান কাটার উৎসব শুরু হয় নভেম্বরের শুরুতে। এর প্রায় এক মাস আগেই আগাম জাতের আমন ধান কাটা শুরু হয়। বোরো ধান কাটার কিছুদিন পর জুনের মাঝামাঝি সময়ে আগাম জাতের আমন চাষ করা হয়। এ ধান কাটার পর জমিতে আগাম শীতকালীন শাক-সবজি চাষ করা হয়। পরে শীতকালীন ফসল ঘরে তোলার পর একই জমিতে বোরো ধান চাষ করেন কৃষকেরা। ফলে একই জমিতে বছরে একাধিক ফসল উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হয়। কৃষকদের আশা, এভাবে আয় বাড়িয়ে উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের মঙ্গা পরিস্থিতি জয় করা সম্ভব হবে।

রংপুরের মহিপুর তিস্তার চর এলাকার কৃষক শফিয়ার রহমান বলেন, সাধারণত উঁচু জমিতে আগাম জাতের আমন চাষ করা হয়। এসব জমিতে পানি জমে থাকে না। তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছেন। এর মধ্যে তিন বিঘা জমি থেকে ৪৭ মণ ধান পেয়েছেন। বাকি দুই বিঘার ধান এক সপ্তাহ পর কাটবেন।

তিনি বলেন, আগাম জাতের আমনে বিঘাপ্রতি ফলন সাধারণ আমনের তুলনায় দুই থেকে তিন মণ কম হয়। প্রতি বিঘায় ১৬ থেকে ১৮ মণ ধান পাওয়া যায়। এ বছর প্রতি বিঘায় উৎপাদন খরচ হয়েছে ১৪ হাজার টাকা। গত বছর একই জমিতে খরচ হয়েছিল ১২ হাজার টাকা।

শফিয়ার রহমান বলেন, আগাম জাতের আমন ধান কাটার পর জমিতে ফুলকপি, গাজর, বেগুন ও ধনিয়াপাতাসহ আগাম জাতের শীতকালীন সবজি চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছি। শীতকালীন সবজি তোলার পর জমিতে বোরো ধান চাষ করব।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট গ্রামের কৃষক আদিলুর রহমান ছয় বিঘা জমিতে আগাম আমন চাষ করেছেন। তিনি বলেন, আগাম জাতের আমনের ফলন কিছুটা কম হলেও ধান কাটার পর দ্রুত জমিতে শীতকালীন শাক-সবজি চাষ করা যায়। এতে কৃষকেরা লাভবান হন।

তিনি জানান, ছয় বিঘা জমিতে আগাম আমন চাষে এবার খরচ হয়েছে ৮৭ হাজার টাকা। গত বছর একই জমিতে খরচ হয়েছিল ৭১ হাজার টাকা। তিনি বলেন, আমাদের এলাকায় অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত আগাম জাতের আমন ধান কাটা চলে। এবার ধানের ফলন ভালো হয়েছে। তবে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় হতাশায় আছি।

কালীগঞ্জের কাকিনা চর রুদ্রেশ্বর এলাকার কৃষক হোসেন আলী বলেন, তাদের এলাকায় চলতি সপ্তাহ থেকে আগাম আমন কাটা শুরু হয়েছে। অনেক কৃষক ধান কাটার পর জমিতে আগাম শীতকালীন ফসল চাষ করেছেন।

তিনি বলেন, এ বছর আগাম জাতের আমনে তেমন রোগবালাই দেখা দেয়নি। ফলনও আশানুরূপ হয়েছে। তবে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় আমন ধান চাষে লাভের অঙ্ক কমেছে। আমি তিন বিঘা জমি থেকে ৫২ মণ ধান পেয়েছি। এখন জমিতে আগাম জাতের ফুলকপি লাগাচ্ছি।

হাতীবান্ধার চর গড্ডিমার এলাকার কৃষক রওশন আলম বলেন, এ বছর আমাদের এলাকায় কোনো বন্যা হয়নি। তাই আগাম জাতের আমনের ক্ষতি হয়নি। আমরা সাধারণত আগাম জাতের ধান চাষ করি, যাতে ধান কাটার পর শীতকালীন ফসল আগাম চাষ করতে পারি। আমার চার বিঘা জমির ধান পেকে গেছে। দুই-তিন দিনের মধ্যে কাটা শুরু করব।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি বছর রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলা- কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রংপুর, গাইবান্ধা ও নীলফামারীতে আমন ধানের চাষ হয়েছে ৬ লাখ ২১ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২০ লাখ ১ হাজার ৩৯১ টন চাল। এর মধ্যে আগাম জাতের আমন ধান চাষ হয়েছে ৩৩ হাজার হেক্টর জমিতে।

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক আবু বকর সাইফুল ইসলাম বলেন, উঁচু জমিতে চাষ করা আগাম জাতের আমন ধান ইতোমধ্যে কাটা শুরু হয়েছে। অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত আগাম আমন কাটা চলবে। নভেম্বরের শুরুতে শুরু হবে মৌসুমের সাধারণ আমন ধান কাটা। এ বছর বন্যার প্রভাব কম থাকায় আগাম আমনের উৎপাদন আশানুরূপ হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কৃষকেরা আগাম আমন ধান কাটার পর ভুট্টা, আলু, শাক-সবজিসহ নানা ধরনের আগাম শীতকালীন ফসল চাষ করেন