০৬ অক্টোবর, ২০২৬
দীর্ঘ সময় ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের পর্দার দিকে তাকিয়ে কাজ করলে অনেকেরই ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, ব্যথা বা মাথাব্যথার মতো সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে নিচের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘক্ষণ কাজ করলে ঘাড়ের পেশিতে অতিরিক্ত চাপ পড়ে।
সময়ের সঙ্গে এই অস্বস্তি আরো বাড়তে পারে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে মেরুদণ্ড বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জাহির আব্বাস মার্চেন্ট দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিন ব্যবহারের সময় ঘাড়ের ওপর চাপ কমানোর কয়েকটি সহজ উপায় জানিয়েছেন।
সমস্যাটি শুধু ল্যাপটপ ব্যবহারের কারণে নয়, বরং কীভাবে বসে সেটি ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় নিচের দিকে তাকিয়ে থাকলে ঘাড়ের পেশিকে মাথার ভার ধরে রাখতে বেশি পরিশ্রম করতে হয়।
এতে পেশিতে ক্লান্তি, শক্তভাব, মাথাব্যথা ও ঘাড়ে ব্যথা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞের মতে, ঘাড় দীর্ঘ সময় একই অবস্থানে রাখার জন্য তৈরি নয়। তাই ঘণ্টার পর ঘণ্টা মাথা সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে কাজ করলে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। যাদের আগে থেকেই ঘাড় বা মেরুদণ্ডের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
দীর্ঘ সময় ভুল ভঙ্গিতে বসে থাকলে ঘাড়ের স্বাভাবিক বাঁকেও প্রভাব পড়তে পারে। তবে শুধু ভুল ভঙ্গির কারণে মেরুদণ্ডের সমস্যা হবে—এমন নয়। কিন্তু এটি ঘাড়ে চাপ ও অস্বস্তি বাড়াতে পারে।
তাই ল্যাপটপে কাজ করার সময় শুধু পর্দার দিকে নয়, নিজের বসার ভঙ্গির দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
ঘাড়ের ওপর চাপ কমাতে কর্মস্থলে কয়েকটি সহজ পরিবর্তন আনা যেতে পারে।
যেমন—
ল্যাপটপ সরাসরি টেবিলের ওপর রেখে নিচের দিকে তাকিয়ে কাজ করার বদলে সেটিকে কিছুটা উঁচুতে রাখা যেতে পারে। প্রয়োজন হলে আলাদা কিবোর্ড ও মাউস ব্যবহার করলে আরও আরামদায়কভাবে কাজ করা সম্ভব।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, একটানা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে না থেকে প্রতি ৩০ থেকে ৪০ মিনিট পরপর উঠে একটু হাঁটাচলা করা ভালো। এ সময় ঘাড় ও কাঁধ ধীরে ধীরে নড়াচড়া করাও যেতে পারে।
নিয়মিত ছোট বিরতি নিলে একই ভঙ্গিতে থাকার কারণে ঘাড় ও কাঁধে তৈরি হওয়া শক্তভাব এবং চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে।
দীর্ঘ সময় কাজ করার পর ঘাড়ে হালকা ব্যথা বা শক্তভাব হলে বিশ্রাম এবং বসার ভঙ্গি ঠিক করার পর তা কমে যেতে পারে। তবে ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
বিশেষ করে ঘাড়ের ব্যথা যদি হাত পর্যন্ত ছড়িয়ে যায় কিংবা হাতে অসাড়তা, ঝিনঝিন ভাব বা দুর্বলতা দেখা দেয়, তাহলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।