০৬ অক্টোবর, ২০২৬
ফুটবল ইতিহাসের পাতায় লিওনেল মেসির নাম লেখার মতো করেই আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সি থেকে বিদায় নিচ্ছেন। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আলবিসেলেস্তাদের হয়ে মাঠে নেমে যে সব অবিশ্বাস্য মাইলফলক গড়েছেন, সেগুলো শুধু সংখ্যা নয়, একটা যুগের গল্প। নতুন প্রজন্মের তারা উঠলেও মেসির কিছু রেকর্ড ভাঙা যে প্রায় অসম্ভব, তাই মনে করা হচ্ছে। ইএসপিএনসহ বিভিন্ন পরিসংখ্যান তথ্যে উঠে এসেছে এমনই কিছু অটুট রেকর্ডের কথা।
২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের কানাডা-মেক্সিকো-যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপ পর্যন্ত ছয়টি আলাদা বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছেন মেসি। এই কীর্তি তিনি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং মেক্সিকোর গুলিয়েমো ওচোয়ার সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন। তবু ৩৯ বছর বয়সেও বিশ্বমঞ্চের ফাইনালে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া এবং দুই দশক ধরে শীর্ষ পর্যায়ে টিকে থাকা সহজ কথা নয়। এই রেকর্ড ছুঁতে হলে ভবিষ্যৎ তারকাদের অসাধারণ ফিটনেস ও ধারাবাহিকতা প্রমাণ করতে হবে।
বিশ্বকাপের মূল পর্বে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড এখন এককভাবে মেসির। ৩৪টি ম্যাচে তিনি মোট ৩০৫৫ মিনিট মাঠে কাটিয়েছেন। একটি দেশের হয়ে টানা ছয়টি বিশ্বকাপ চক্রে ফিট থেকে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অবদান রাখার এই পরিসংখ্যান যেকোনো ফুটবলারের জন্যই বিশাল চ্যালেঞ্জ।
আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২০৭ ম্যাচে ১২৫ গোল করেছেন মেসি। দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতার গোল ছিল মাত্র ৫৪। অর্থাৎ বাতিস্তুতার দ্বিগুণের চেয়েও বেশি গোল করে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছেন তিনি। ২১ বছর ধরে জাতীয় দলের হয়ে এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা আগামী দিনে প্রায় অসম্ভব বলেই মনে হচ্ছে।
ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে ২০১২ সালের এক পঞ্জিকাবর্ষে অবিশ্বাস্য ৯১ গোল করেছিলেন মেসি। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস স্বীকৃত এই মাইলফলক ছুঁতে হলে কোনো স্ট্রাইকারকে বছরের পর বছর নিখুঁত ফিনিশিং ও অপ্রতিরোধ্য ছন্দে থাকতে হবে। ১৯৭২ সালে গার্ড মুলারের ৮৫ গোলের রেকর্ড ভেঙে তৈরি হওয়া এই রূপকথা এখনো অক্ষত।
বার্সেলোনার হয়ে ৭৯৮ ম্যাচে ৬৭২ অফিসিয়াল গোল করে ক্লাবের সর্বকালের সেরা গোলদাতা হয়েছেন মেসি। একই সঙ্গে ১০টি লা লিগা ও ৪টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ মোট ৩৫টি শিরোপা জিতেছেন। এক ক্লাবের হয়ে এত গোল ও ট্রফি জেতার রেকর্ড আধুনিক ফুটবলে প্রায় অবাস্তব।