০৭ অক্টোবর, ২০২৬
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম বিধানসভা আসনে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরুর পরেই বড় ধরনের উত্তেজনার পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ভোটগ্রহণ শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রেজিনগর থানার পুলিশের হাতে ‘আটক’ হয়েছেন নওদার বিধায়ক তথা ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’র (এজেইউপি) চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ৭টায় এই দুই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। সাত সকালেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শক্তিপুরে নিজের গ্রামের বুথে ভোট দেন হুমায়ুন কবীর। ভোটকেন্দ্র থেকে বেরিয়েই তিনি ভোট লুটের অভিযোগ তুলেন ও পুলিশের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। এরপর গাড়ি করে সোজা রেজিনগরে দলীয় কার্যালয়ে চলে আসেন তিনি।
সূত্রের খবর, সূত্রের খবর দলীয় কার্যালয়ে বসে হুমায়ুন কবীর বিভিন্ন জায়গায় ‘হিংসা’ এবং ‘উত্তেজনায়’ উস্কানি দিচ্ছিলেন। এই অভিযোগ পাওয়ার পর রেজিনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অঞ্জন বর্মনের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী দ্রুত আম জনতা উন্নয়ন পার্টির দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছে যায়।
পুলিশ হুমায়ুন কবীরকে অবিলম্বে দলীয় দপ্তর থেকে নিজের বাড়িতে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিলেও তিনি তা মানতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর পুলিশ তাকে টেঁনেহিঁচরে গাড়িতে তুলে রোজিনগর থানায় নিয়ে যায়। গাড়িতে তোলার সময় হুমায়ুন কবীর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “আমাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না আটক করা হচ্ছে, আমি কিছুই জানি না।”
হুমায়ুন কবীরকে গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে রেজিনগরের বিজেপি প্রার্থী শাঁখারভ সরকার বললেন, “হুমায়ুন কবীর তো কয়েকদিন আগেই বলেছিলেন ভোটের দিন ১০ টা লাশ পড়বে। উনি দাঙ্গা লাগাতে চান। পুলিশকে গালাগালি দেওয়ায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে।”
অন্যদিকে হুমায়ুনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, রেজিনগরের বিভিন্ন বুথে তাদের দলীয় এজেন্টদের বসতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
চলতি বছরের শুরুত পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম- একসঙ্গে দুইটি আসীন থেকে জয়ী হওয়ার পরে নিজের পুরোনো কেন্দ্র নন্দীগ্রামের বিধায়ক-পদে ইস্তফা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
একইভাবে, আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেইউপি)-এর হুমায়ুন কবীর মুর্শিদাবাদ জেলার নওদা ও রেজিনগর- দুই আসন থেকে জেতার পর নওদা নিজের কাছে রেখে রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেন। শূন্য ওই দুই আসনেই আজ উপনির্বাচন হচ্ছে।
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হাসিরানী রথ, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী মহম্মদ এতেশামুল হক, কংগ্রেসের প্রার্থী মিলন প্রধান। সিপিআই প্রার্থী শান্তি গোপাল গিরি, ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ) প্রার্থী আলী মোহাম্মদ সাবে মিরাজ খান। এই আসনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ সঞ্চিতা প্রধান দে-কে প্রার্থী করলেও পরে তিনি তার প্রার্থী পদ প্রত্যাহার করে নেন। এরপরই কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন করার ঘোষণা দেন মমতা। এছাড়াও রয়েছে স্বতন্ত্র দলের প্রার্থীরা।
অন্যদিকে রেজিনগর বিধানসভার আসনে বিজেপির প্রার্থী শাখারভ সরকার, মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী, আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী গোলাম নবী আজাদ, ঋতব্রত তৃণমূলের প্রার্থী সফিউজ্জামান শেখ, কংগ্রেস প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহিল কাফি, সিপিআইএম মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ আসাদ আলী।
পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি আজ তামিলনাড়ুর ২টি (মাদুরান্তাকম, ধারাপুরম), পুডুচেরির ১টি (থাট্টানচাভাদি) বিধানসভার আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
একইসঙ্গে আসামের নওগাওঁ লোকসভা আসনটিতেও উপনির্বাচন চলছে।
প্রতিটি আসনেই ফল ঘোষণা আগামী ৯ অক্টোবর।