☰
✕

জাপানের ৮ প্রতিষ্ঠানে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ

০৭ অক্টোবর, ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য জাপানের আটটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে আন্তর্জাতিক ইন্টার্নশিপ ও ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পথ খুলেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের মাধ্যমে ইন্টার্নশিপের ধরন, যোগ্যতা, আবেদন প্রক্রিয়া ও জাপানে কাজের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানার সুযোগ পেয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (৫ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘গ্লোবাল সাউথ–জাপান টেক ট্যালেন্ট ইন্টার্নশিপ (জিএস-জেটিআই)’ কর্মসূচির আওতায় এ ক্যারিয়ার আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের (এমইটিআই) উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিটির মূল লক্ষ্য ছিল গ্লোবাল সাউথের প্রযুক্তি প্রতিভাবান তরুণদের সঙ্গে জাপানি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সরাসরি যোগাযোগ তৈরি করা। এর মাধ্যমে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি খাতে ইন্টার্নশিপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আয়োজনে অংশ নেওয়া আটটি প্রতিষ্ঠান হলো—অ্যাডোরা ইঙ্ক, এ-ওয়ান রোড, অ্যাস্টার, এডব্লিউএল, ক্যাপার, গ্রিন কার্বন, জেএসএ এবং নোয়ালজি। প্রতিষ্ঠানগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), অনলাইনে শিশু সুরক্ষা, উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তি, দুর্যোগ সহনশীলতা, এজ এআই, কার্বন প্রকল্প ও সুপারকন্ডাক্টিং প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি খাতে কাজ করছে।

এ আয়োজনে প্রযুক্তি ও প্রকৌশল সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের জন্য স্থানীয় চাকরির বাজারের পাশাপাশি জাপানের প্রযুক্তি খাতে কাজের বাস্তব সুযোগ সম্পর্কে সরাসরি ধারণা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ইন্টার্নশিপে ভালো পারফরম্যান্স করা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হতে পারে।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন। তারা ইন্টার্নশিপের কাজের ধরন, প্রয়োজনীয় দক্ষতা, যোগ্যতা ও আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে পারেন। পাশাপাশি, বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্জিত তাত্ত্বিক জ্ঞান কীভাবে বাস্তব শিল্পসমস্যা সমাধানে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়েও ধারণা পান।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক উপমা কবির। জিএস-জেটিআই সচিবালয়ের প্রতিনিধি তাতসুয়া ইয়ামাদা জিএস-জেটিআই কর্মসূচি ও জাপানে কাজের সুযোগ নিয়ে একটি পরিচিতিমূলক উপস্থাপনা দেন। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. মামুন-অর-রশিদ।

শিক্ষার্থীদের নিয়ে মূল সেমিনার দুপুর ২টায় শুরু হয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উপস্থাপনা, প্রশ্নোত্তর ও নেটওয়ার্কিংয়ের মধ্য দিয়ে সন্ধ্যা ৬টায় শেষ হয়।

এর আগে সকালে জাপানি প্রতিনিধিদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করে এবং ক্যাম্পাস পরিদর্শন করে। এ সময় শিক্ষা ও শিল্প খাতের চাহিদার মধ্যে সংযোগ আরও জোরদার এবং বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ভবিষ্যতে যৌথ গবেষণার সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়েও আলোচনা হয়।

আয়োজকদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি শিল্পের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। একইসঙ্গে, জাপানি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রয়োজনীয় দক্ষতা সম্পর্কে ধারণা নিয়ে নিজেদের ক্যারিয়ার প্রস্তুত করার সুযোগ তৈরি হবে।