০৭ অক্টোবর, ২০২৬
হালাল অর্থনীতির বিস্তৃত সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে ১০ ও ১১ অক্টোবর লন্ডনে বসছে দ্বিতীয় ‘লন্ডন হালাল ফোরাম’। দুই দিনের এই আয়োজনে ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, নীতিনির্ধারক ও শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।
‘হালাল তাইয়্যিব ফর হিউম্যানিটি’ প্রতিপাদ্যে এবারের ফোরামে হালাল অর্থনীতির পরিধি নিয়ে আলোচনা হবে। শুধু খাদ্য ও পণ্যের সনদ দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বিনিয়োগ, পর্যটন, প্রযুক্তি, সরবরাহব্যবস্থা, ব্র্যান্ডিং ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও হালাল খাত কীভাবে বিস্তৃত হচ্ছে, তা আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।
লন্ডনের কুইন এলিজাবেথ টু সেন্টারে দুই দিনের এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। ইসলামিক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এবং হালাল প্রোডাক্টস ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির যৌথ উদ্যোগ হালাল৩৬০ ফোরামটির আয়োজন করছে। বৈশ্বিক যোগাযোগ সহযোগী হিসেবে রয়েছে আনাদোলু এজেন্সি।
ফোরামে ব্যবসাগুলো কীভাবে নতুন বাজারে প্রবেশ করতে পারে এবং বিভিন্ন দেশের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শক্তিশালী অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হবে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে মতবিনিময় করবেন অংশগ্রহণকারীরা।
প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইও এবারের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পাবে। সরবরাহব্যবস্থাপনা, বাজারে প্রবেশ, হালাল সনদ দেওয়া এবং ব্যবসা সম্প্রসারণে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার কীভাবে বাড়ছে, তা নিয়ে আলোচনা হবে।
বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে হালাল পণ্য ও সেবার চাহিদা বাড়ার বিষয়টিও আলোচনায় থাকবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক হালাল বাজারে কী ধরনের নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরি হচ্ছে, তা নিয়েও মতবিনিময় করবেন ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা।
তুরস্ক, সৌদি আরব, নাইজেরিয়াসহ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ ও যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধিরা ফোরামে অংশ নেবেন বলে আয়োজকেরা জানিয়েছেন। এর মাধ্যমে ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও অংশীদারত্ব তৈরির সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ফোরামে ফিলিস্তিনি ব্যবসাগুলোর জন্যও বিশেষ আয়োজন থাকছে। ‘প্যালেস্টাইন ব্রেকফাস্ট’ অনুষ্ঠানে ফিলিস্তিনি ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন পণ্য তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি ফিলিস্তিনি খাবার ও রান্নার ঐতিহ্য আন্তর্জাতিক বাজারে কীভাবে আরও পরিচিত করা যায়, তা তুলে ধরা হবে।
এ ছাড়া আলবারাকা ফোরাম ফর ইসলামিক ইকোনমিকসের সহযোগিতায় ‘গ্লোবাল বিজনেস এক্সিলেন্স গালা’ অনুষ্ঠিত হবে। থাকবে বিশেষ তুর্কি নৈশভোজও।
আয়োজকেরা বলছেন, হালাল খাবার ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতাকে শুধু ভোক্তা বাজার হিসেবে নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার, সাংস্কৃতিক যোগাযোগ বাড়ানো এবং বিভিন্ন দেশের ব্যবসাকে কাছাকাছি আনার মাধ্যম হিসেবেও তুলে ধরতে চান তাঁরা।
লন্ডন হালাল ফোরামের প্রথম আয়োজন হয়েছিল গত বছর। এতে সরাসরি ও অনলাইনে ১ হাজার ৫০০ জনের বেশি অংশগ্রহণকারী যুক্ত হয়েছিলেন। ৩৫ জনের বেশি আন্তর্জাতিক বক্তাও এতে অংশ নেন। পাশাপাশি ১০টির বেশি দেশের হালাল পণ্য নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল।
এবারের আয়োজন থেকে বোঝা যাচ্ছে, বৈশ্বিক হালাল অর্থনীতি এখন শুধু খাদ্যপণ্য বা সনদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। প্রযুক্তি, পর্যটন, বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে এর সংযোগ বাড়ছে। ফলে হালাল বাজারকে ঘিরে নতুন ব্যবসা ও আন্তদেশীয় অংশীদারত্বের সুযোগও তৈরি হচ্ছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি