☰
✕

ইউরোপীয় পার্লামেন্টে বসল ট্রাম্পের নগ্ন সোনালি ভাস্কর্য

০৮ অক্টোবর, ২০২৬

ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ভবনের ভেতরে প্রদর্শিত হচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাড়ে ৮ ফুট উঁচু একটি নগ্ন সোনালি ভাস্কর্য।ডেনিশ শিল্পী জেন্স গ্যালশিয়টের তৈরি ভাস্কর্যটির নাম ‘অরেঞ্জ প্লেগ’ বা ‘কমলা মহামারি’। ‘কিং অব ইনজাস্টিস’ নামেও পরিচিত এটি।

ভাস্কর্যে দেখা যায়, বিবস্ত্র ট্রাম্পের এক হাতে ন্যায়বিচারের দাঁড়িপাল্লা, অন্য হাতে লম্বা একটি গলফ ক্লাব।

ক্লাবটির পাশে পৃথিবীর মতো দেখতে একটি গলফ বলও রয়েছে। ট্রাম্পকে আবার অপেক্ষাকৃত খাটো এক পোশাক পরা মানুষের কাঁধে বসে থাকতে দেখা যায়। মানুষটি কোনোমতে তাকে বহন করে চলেছে।

স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের দুটি ভবনকে যুক্ত করা ব্যস্ততম মোড়ে ভাস্কর্যটি স্থাপন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এটি সেখানে থাকার কথা।

ভাস্কর্যের বেদিতে লেখা রয়েছে, ‘আমি একজন মানুষের পিঠে চেপে বসে আছি। আমার ভারে সে তলিয়ে যাচ্ছে। তাকে সাহায্য করার জন্য আমি যেকোনো কিছু করব।

শুধু তার পিঠ থেকে নামব না। ’

শিল্পী জেন্স গ্যালশিয়ট বলেন, নিয়মতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় সম্মিলিত প্রচেষ্টার পথে ট্রাম্প বড় হুমকিগুলোর একটি। এই ধ্বংসাত্মক প্রভাবের বিরুদ্ধে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

২৩ ক্যারেট সোনার পাত দিয়ে মোড়ানো ভাস্কর্যটির অনুপ্রেরণা হিসেবে গ্যালশিয়ট উল্লেখ করেছেন বিখ্যাত রূপকথা ‘দ্য এম্পেররস নিউ ক্লোদস’-কে। গল্পটিতে অহংকারী এক রাজা দামি পোশাক পরার ভ্রান্ত অহমিকায় নগ্ন অবস্থায় রাজপথে হাঁটেন।

ভয় ও চাটুকারিতার কারণে কেউ তাকে সত্যটি বলতে সাহস পায় না। শেষ পর্যন্ত এক শিশু রাজাকে নগ্ন বলে প্রকাশ করে দেয়।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ভেতরে ভাস্কর্যটি প্রদর্শনের জন্য শিল্পীকে আমন্ত্রণ জানান ডেনমার্কের বামপন্থি ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য পার ক্লাউসেন।

ট্রাম্পের ক্ষোভ বা প্রতিক্রিয়া নিয়ে তিনি চিন্তিত নন জানিয়ে ক্লাউসেন বলেন, কারও চামড়া যদি এতটাই পাতলা হয় যে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে এমন ভাস্কর্য প্রদর্শন সহ্য করতে না পারেন, তাহলে বিশ্বমঞ্চে তার জায়গা নেই।

এর আগে গত বছর ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের ৩০তম জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন কপ৩০-এ ভাস্কর্যটি প্রদর্শিত হয়েছিল। চলতি বছর জার্মানির মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সেও এটি নজর কেড়েছে।

প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে দর্শনার্থীদের বিনামূল্যে ভাস্কর্যটির ছোট সংস্করণ বা মিনিয়েচার দেওয়া হচ্ছে। বাড়িতে থ্রিডি প্রিন্টারের মাধ্যমে এটি তৈরি করতে প্রয়োজনীয় ফাইলও অনলাইনে প্রকাশ করেছেন গ্যালশিয়ট।

তবে ট্রাম্পের সোনালি ভাস্কর্য এটাই প্রথম নয়। গত এপ্রিলে মিয়ামিতে তার নিজের গলফ কোর্সে উন্মোচন করা হয় ‘ডন কলোসাস’ নামে ১৫ ফুট উঁচু আরেকটি ভাস্কর্য। সেখানে পোশাক পরা ট্রাম্পকে মুষ্টিবদ্ধ হাত শূন্যে তুলে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

এদিকে মিয়ামিতে প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরিতেও নিজের দুটি বিশাল সোনালি ভাস্কর্য বসানোর পরিকল্পনা করছেন ট্রাম্প। এর একটি পরিকল্পনার এআই-নির্মিত ভিডিও তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশ করেছেন।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ট্রাম্পের এই ভাস্কর্য স্থাপন নিয়ে হোয়াইট হাউস এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি।