☰
✕

হাবিপ্রবির গবেষণায় ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী ধান উদ্ভাবনের সম্ভাবনা

১০ অক্টোবর, ২০২৬

মরণঘাতী ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী ধান এবং চরাঞ্চলের উপযোগী উচ্চফলনশীল ধানের জাত উদ্ভাবনে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) একদল গবেষক।

গবেষণার চলমান ট্রায়াল সফল হলে তা দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ও কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দিনাজপুরের পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণা মাঠে এ গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

হাবিপ্রবির প্ল্যান্ট প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক মো. মামুনুর রশীদ, এগ্রোনমি বিভাগের অধ্যাপক মো. মমিনুর রহমান এবং জেনেটিক্স অ্যান্ড প্ল্যান্ট ব্রিডিং বিভাগের অধ্যাপক মো. আরিফুজ্জামানের যৌথ তত্ত্বাবধানে গবেষণাটি চলছে। এতে এগ্রোনমি বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্যায়ের তিন শিক্ষার্থী পৃথক তিনটি প্রকল্পে কাজ করছেন।

প্রথম প্রকল্পে শিক্ষার্থী মোছা. আজিজা খাতুন বিলুপ্তপ্রায় ছয়টি দেশীয় ধানের জাত নিয়ে গবেষণা করছেন। এসব ধানের জাত ব্লাস্ট রোগের বিরুদ্ধে শতভাগ প্রতিরোধক্ষমতা দেখিয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

দ্বিতীয় প্রকল্পে শিক্ষার্থী মো. শামসুল আলম মানিক চরাঞ্চলের প্রতিকূল পরিবেশে কম সেচ ও সীমিত পরিমাণ নাইট্রোজেন সার ব্যবহার করে আমন ধানের ফলন বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছেন।

তৃতীয় প্রকল্পে শিক্ষার্থী মো. মাসুম রেজা প্রচলিত প্রজনন পদ্ধতিতে ধানের ষষ্ঠ প্রজন্মের উন্নত লাইন উদ্ভাবন এবং উচ্চ পুষ্টিগুণসম্পন্ন ‘ফাইন ব্ল্যাক রাইস’ বা চিকন কালো ধান নিয়ে গবেষণা করছেন।

দিনাজপুরের পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণা মাঠে চলমান প্রকল্পগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেন হাবিপ্রবির ট্রেজারার অধ্যাপক মো. মাসুদুল হাসান খান, দিনাজপুর জেলা বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জাফর ইকবাল এবং বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) দিনাজপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সৈয়দ জাহিদ হাসান। এ সময় গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শনকালে কৃষিবিদ মো. জাফর ইকবাল বলেন, জেনেটিক রিসোর্স সমৃদ্ধ করা এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। কোনো উদ্ভাবনকে নতুন জাত হিসেবে স্বীকৃতি পেতে হলে বিদ্যমান জাতের তুলনায় কৃষিতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য ও ফলনের ক্ষেত্রে অন্তত ১০ শতাংশ বেশি অর্জন দেখাতে হয়।