১০ অক্টোবর, ২০২৬
আপনার স্বাস্থ্যের ওপর সঙ্গীর নাক ডাকার ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। নাক ডাকার সমস্যাটিকে আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ মনে করা হলেও বাস্তবে তা নয়। কেননা, এতে আমাদের স্বাভাবিক ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে যা আমাদের শারীরিক পুনরুদ্ধার নষ্ট করে। তাই নাক ডাকে এমন কারও পাশে ঘুমানো স্বাস্থ্যের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
মানুষ কেন নাক ডাকে?
ঘুমের সময় আমাদের ঊর্ধ্ব শ্বাসনালির নরম টিস্যুগুলোর কম্পনের কারণে নাক ডাকার শব্দ হয়-এমনটিই বলেছেন ডেন্টাল স্লিপ মেডিসিনে বিশেষ আগ্রহী দন্তচিকিৎসক ডা. ক্লেয়ার সাইমন।
যুক্তরাজ্যের প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ নাক ডাকেন। আর এ সমস্যা নারীদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। ব্রিটিশ স্নোরিং অ্যান্ড স্লিপ অ্যাপনিয়া অ্যাসোসিয়েশন (বিএসএসএএ) এর এক গবেষণায় এই তথ্য পাওয়া গেছে।
আর স্লিপ ফাউন্ডেশনের করা এক মার্কিন জরিপে দেখা গেছে, যাদের সঙ্গী নাক ডাকেন তাদের ৭৫ শতাংশেরই ঘুমের ওপর প্রভাব পড়েছে।
মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তির ওপর নাক ডাকার প্রভাব
নাক ডাকা ব্যক্তিদের সঙ্গীরা অনেক সময় ঘুমানোর প্রয়োজনে অন্য ঘরে গিয়ে ঘুমাতে বাধ্য হন। অ্যারোক্স হেলথের পরামর্শক অর্থোডন্টিস্ট ও ঘুমবিষয়ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আমা জোহাল বলেন, মানুষ হিসেবে আমাদের পর্যাপ্ত ঘুমের প্রয়োজন রয়েছে। সেটি পূরণ না হলে আমাদের শরীর কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে না।
রাতের আমরা সাধারণত প্রতি ৯০ মিনিট চক্রাকার সাইকেলে ঘুমাই। এসময় আমরা ঘুমের বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করি। এই চক্রের গভীর ঘুমের ধাপগুলো শারীরিক পুনরুদ্ধারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বিএসএসএএ এর মতে, ঘুম বারবার ব্যাহত হওয়ার কারণে পুনরুদ্ধারমূলক ধাপগুলোতে আমরা কম সময় কাটাই। ফলে বিছানায় দীর্ঘ সময় কাটানোর পরও ঘুম থেকে উঠলে আমাদের ক্লান্ত লাগে।
মানসিক চাপ ও মেজাজের ওপর প্রতিক্রিয়া
ঘুমের সময় আমাদের মস্তিষ্ক দিনের যাবতীয় তথ্য প্রক্রিয়াজাত ও সংরক্ষণ করে। এসময সঙ্গী নাক ডাকলে ঘন ঘন ঘুম ভাঙার কারণে এই প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়, যা আপনার মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তিকে প্রভাবিত করতে পারে। এমনকি আপনার মেজাজ খিটখিটে হয়ে যেতে পারে। কমে যেতে পারে চাপ সামলানোর সক্ষমতা।
২৯ বছর বয়সী মেগ ওয়ারেন তার সাবেক সঙ্গীর নাক ডাকার কারণে ঘন ঘন জেগে উঠতেন। তিনি বলেন,
সম্পর্কের ওপর বিরূপ প্রভাব
নাক ডাকার বিষয়টি আপনার সম্পর্কের ওপরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ডাক্তার ক্লেয়ার সাইমন বলেন, সঙ্গীর নাক ডাকার কারণে ঘুম ভেঙে মেজাজ খিটখিটে হয়, এতে করে এক পর্যায়ে ঝগড়া বাঁধে এবং দু’জন আলাদা ঘরে ঘুমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সেটি সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা কমিয়ে দিতে পারে।
কখন চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া উচিত?
সাইমন ও জোহাল উভয়ই মনে করেন, কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রথমে বোঝা জরুরি সঙ্গী কি শুধু নাক ডাকছেন, নাকি তার স্লিপ অ্যাপনিয়া রয়েছে।
স্লিপ অ্যাপনিয়া কী, লক্ষণ ও চিকিৎসা
স্লিপ অ্যাপনিয়া হলো ঘুমের সময় একজন মানুষের শ্বাসপ্রশ্বাস বারবার বন্ধ হয়ে আবার শুরু হওয়া। এর লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া, রাতে হাঁসফাঁস করা, ঘন ঘন ঘুম ভাঙা এবং সকালে মাথাব্যথা হওয়া।
সাইমন বলেন, অবস্থাভেদে নাক ডাকা ব্যক্তিকে কন্টিনিউয়াস পজিটিভ এয়ারওয়ে প্রেসার (সিপিএপি) মেশিন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হতে পারে। অথবা কিছু ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারেরও প্রয়োজন হতে পারে।
জীবনযাত্রায় পরিবর্তন ও অন্যান্য সমাধান
ওজন কমানো, ধূমপান বন্ধ করা, ঘুমানোর আগে অ্যালকোহল গ্রহণ কমানো, অথবা ঘুমানোর ভঙ্গি পরিবর্তনের (যেমন: চিৎ হয়ে শোয়া বদলে কাত হয়ে শোয়া) মাধ্যমে সাধারণ নাক ডাকা বন্ধ করা যেতে পারে বলে মনে করেন সাইমন।
তবে সঙ্গীকে একজন চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করার পরামর্শও দেওয়া যেতে পারে। তিনি তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে পারবেন বা বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠাতে পারবেন।
জোহাল বলেন, অনেক দম্পতি ‘অত্যন্ত দীর্ঘ সময়’ ধরে নাক ডাকার সমস্যা সহ্য করে যান। যা এক সময় তাদের সম্পর্ক ও স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে।