১১ অক্টোবর, ২০২৬
বাংলাদেশে ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক এবং ১২ দশমিক ৬ শতাংশ শিশু-কিশোর মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। তাঁদের মধ্যে প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও ৯২ শতাংশ কোনো ধরনের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পান না। বিশেষজ্ঞের সংকট, সচেতনতার অভাব ও সামাজিক কুসংস্কারকে এ পরিস্থিতির অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসউপলক্ষে দিনাজপুরে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। দিনাজপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের উদ্যোগে এবং সেন্টার ফর ডিজঅ্যাবিলিটি ইন ডেভেলপমেন্টের (সিডিডি) সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘অর্জিত অভিজ্ঞতা শোনা, প্রকৃত কণ্ঠস্বর, প্রকৃত পরিবর্তন’ সামনে রেখে সকালে দিনাজপুর সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে শেষ হয়। পরে হাসপাতালের শহীদ ডা. আব্দুল জব্বার মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য জরিপের তথ্য উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, দেশে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা থাকলেও অধিকাংশ আক্রান্ত ব্যক্তি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরামর্শ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞের সংকট এবং বিভাগীয় ও জেলা শহরকেন্দ্রিক সেবাব্যবস্থার কারণে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
বক্তারা বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য মানুষের সামগ্রিক সুস্থতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শারীরিক অসুস্থতার মতো মানসিক চাপ, উদ্বেগ, হতাশা ও বিষণ্নতাকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। পারিবারিক চাপ, অর্থনৈতিক সংকট, কর্মক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার মানুষের মানসিক চাপ বাড়াতে পারে।
তাঁরা আরও বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক কুসংস্কার, নেতিবাচক ধারণা, সচেতনতার অভাব ও সংকোচের কারণে অনেকেই প্রয়োজনীয় সহায়তা নিতে চান না। মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তির পাশে দাঁড়ানো, তাঁর কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সময়মতো চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং পরিবারের সহযোগিতায় অনেক মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব।
সভায় মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের পরিচর্যায় পরিবারের সদস্যদের ভূমিকার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বক্তারা বলেন, মা, স্ত্রী, বোনসহ পরিবারের যাঁরা দীর্ঘ সময় ধরে আক্রান্ত ব্যক্তিদের যত্ন নেন, তাঁদেরও মানসিক সহায়তা ও যত্নের প্রয়োজন রয়েছে।
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন দিনাজপুরের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মোছা. সাদরাতুন মুমতাহিনা, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. সিরাজুল ইসলাম, আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. নূর আলম, জেলা স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. সাদমান সাকিব এবং দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. জলধী নাথ রায়।
এ ছাড়া সিডিডির প্রকল্প সুপারভাইজার ময়নুল ইসলাম, প্রকল্প ফিল্ড ম্যানেজার মুকুল কিস্কু, পরিচর্যাকারী তাপসী রানী, লায়লা, ফারহানা ও মোশাররফ এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবাগ্রহীতা মকিমুল ও হোসনে আরাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।