১২ অক্টোবর, ২০২৬
আর্থ্রাইটিস বা বাত-ব্যথায় আক্রান্ত রোগীদের মনে প্রায়ই প্রশ্ন জাগে—কোন খাবার খেলে ব্যথা বাড়ে, আর কোনটি বাদ দিলে মিলবে স্বস্তি? গবেষকদের মতে, আর্থ্রাইটিস রোগীদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো ‘একই ধরনের’ খাবারের তালিকা নেই। তবে কিছু খাবার শরীরের প্রদাহ বাড়াতে পারে, আবার কিছু খাবার নিয়ে মানুষের মনে অহেতুক ভয় বা ভুল ধারণাও রয়েছে।
পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকদের মতে, খাদ্যাভ্যাসে যেকোনো বড় পরিবর্তনের আগে সঠিক তথ্য জানা জরুরি।
প্রদাহ বাড়াতে পারে যেসব খাবার
কিছু খাবার শরীরে প্রদাহ তৈরিতে অনুঘটক হিসেবে কাজ করে, যা আর্থ্রাইটিসের কষ্ট বাড়িয়ে দিতে পারে। চলুন, জেনে নিই।
অতিরিক্ত চিনি : এটি শরীরে ‘সাইটোকাইন’ নামক উপাদান নিঃসরণ বাড়ায়, যা প্রদাহের জন্য দায়ী।
সম্পৃক্ত চর্বি : লাল মাংস, প্রক্রিয়াজাত মাংস ও পূর্ণ চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত খাবারে এটি থাকে। তবে এগুলো একবারে বাদ না দিয়ে কম চর্বিযুক্ত বিকল্প বেছে নেওয়া ভালো।
অতিরিক্ত ওমেগা-৬ ফ্যাটি এসিড : ভুট্টা বা সূর্যমুখী তেলের মতো উদ্ভিজ্জ তেলে এটি পাওয়া যায়। পরিমিত মাত্রায় শরীরের জন্য এটি প্রয়োজন হলেও অতিরিক্ত ব্যবহারে প্রদাহ বাড়তে পারে।
যেসব খাবার নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে
অনেকে মনে করেন কিছু নির্দিষ্ট খাবার আর্থ্রাইটিসের ব্যথা বাড়ায়, তবে বিজ্ঞানে এর পক্ষে সুনির্দিষ্ট বা শক্তিশালী প্রমাণ মেলেনি :
১. লেবুজাতীয় ফল : কমলা, লেবু বা জাম্বুরা ব্যথা বাড়ায় বলে অনেকে মনে করলেও আসলে এগুলো প্রদাহ কমাতে ও সার্বিক স্বাস্থ্যে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
২. নাইটশেড বা সোলানেসি সবজি : আলু, টমেটো, বেগুন বা ক্যাপসিকামের সাথে প্রদাহের সরাসরি কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি। এগুলোতে প্রচুর ভিটামিন ও খনিজ রয়েছে।
৩. গ্লুটেন ও দুগ্ধজাত খাবার : পাস্তা বা রুটিতে থাকা গ্লুটেন কিংবা দুধ-দই খেলেই যে সবার ব্যথা বাড়বে, এমন নয়। তবে কারো যদি সিলিয়াক ডিজিজ, ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা বা নির্দিষ্ট অ্যালার্জি থাকে, তবে তাদের ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে।
খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ জরুরি
বর্জনমূলক খাদ্যাভ্যাস অনুসরণের মাধ্যমে অনেকে রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিসের অস্বস্তি কমানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু নিজে নিজে খাবার খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিলে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি হতে পারে। বিশেষ করে নিরামিষ বা ভেগান ডায়েট অনুসরণের ক্ষেত্রে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন বি১২ ও ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি যেন না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা প্রয়োজন।
তাই যেকোনো খাবার তালিকা থেকে পুরোপুরি বাদ দেওয়ার আগে একজন চিকিৎসক বা নিবন্ধিত পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।