১৬ অক্টোবর, ২০২৬
জুমাবার হলো সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন। এই দিনটিকে সাপ্তাহিক ঈদের দিনও বলা হয়। পবিত্র এই দিনটিতেই মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন হজরত আদম (আ.) কে সৃষ্টি করেছিলেন। এই দিনেই তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়। আবার এই দিনেই তাকে জান্নাত থেকে বের করে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল। এমনকি কিয়ামতও হবে জুমাবারেই।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— সূর্য উদয়ের দিবসগুলোর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হলো জুমাবার। সে দিনে আদমকে (আ.) সৃষ্টি করা হয়। তাকে ওইদিন জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়। তাকে তা থেকে ওইদিন বের করা হয়।
আর কিয়ামতও হবে জুমার দিবসেই। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৮৫০)
অন্যদিকে পবিত্র কোরআনে জুমার দিনের তাৎপর্য বর্ণিত হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ, যখন জুমার দিনে সালাতের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও। আর বেচাকেনা বর্জন করো। এটাই তোমাদের জন্য সর্বোত্তম, যদি তোমরা জানতে’ (সুরা জুমা, আয়াত: ৯)।
এজন্য জুমার দিনে উত্তমরূপে গোসল, মিসওয়াক, সুগন্ধি ব্যবহারসহ উত্তম কাপড় পরিধান করে মসজিদে যাওয়ার কথা অনেক হাদিসে এসেছে।
সালমান ফারসী (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন— যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে এবং যথাসম্ভব উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করে, এরপর তেল মেখে নেয় অথবা সুগন্ধি ব্যবহার করে, তারপর মসজিদে যায়, আর দু’জনের মধ্যে ফাঁক করে না এবং তার ভাগ্যে নির্ধারিত পরিমাণ সালাত (নামাজ) আদায় করে। আর ইমাম যখন (খুতবার জন্য) বের হন তখন চুপ থাকে। তার এ জুমা এবং পরবর্তী জুমার মধ্যবর্তী যাবতীয় গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৬৪)
আবার জুমার নামাজের বিশেষ ফজিলত যেমন রয়েছে, তেমনি এই দিনে বিশেষ একটি মুহূর্ত রয়েছে যে সময়ে বান্দার দোয়া কবুল হয়।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— জুমার দিনে একটি বিশেষ মুহূর্ত রয়েছে। কোনো মুসলিম সে মুহূর্তটিতে আল্লাহর নিকট কোনো কল্যাণ প্রার্থনা করলে, মহান আল্লাহ তাকে তা দেবেন। এ মুহূর্তটি অতি অল্প। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৮৪৬)
এ ক্ষেত্রে জুমার দিনে বা জুমাবারে কেউ মারা গেলে বিষয়টিকে খুব ভালো হিসেবে মনে করা হয়। কেউ কেউ বলেন— পবিত্র এই দিনে মারা গেলে কবরের আযাব মাফ হয়। আবার কেউ কেউ এমনও বলেন— জুমাবারে মারা গেলে জান্নাত লাভ সহজ হয়। কোরআন ও হাদিসের আলোকে প্রচলিত এমন নানা কথার ভিত্তি কতটুকু?
কবরের ফিতনা থেকে রক্ষা
আবদুল্লাহ ইবনু আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন— যে কোনো মুসলিম ব্যক্তি জুমাবারে বা জুমার রাতে ইন্তেকাল করবে, তাকে আল্লাহ তা’আলা কবরের ফিতনা (কবরের আযাব ও পরীক্ষা বা মুনকার-নাকিরের সওয়াল-জবাব) থেকে হেফাজত করবেন। (মেশকাত, হাদিস: ১৩৬৭; সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ১০৭৪)
এই হাদিস দ্বারা জুমাবারে মারা গেলে কবরের আযাব থেকে রক্ষা পাওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয়। তবে জুমাবারে বা জুমার দিনে কেউ মারা গেলে জান্নাত পাওয়া যাবে কিংবা জান্নাত লাভ সহজ হবে— সরাসরি এমন কোনো বিষয় কোরআন ও হাদিসে আসেনি।
এ বিষয়ে জনপ্রিয় ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহসহ বেশিরভাগ আলেমদের মত, জুমাবারে মারা গেলে মুমিন বান্দা যে কবরের ফিতনা থেকে রক্ষা পাবেন, তা হাদিস দাঁড়াই স্বীকৃত। তবে এদিন জান্নাতে প্রবেশ করবে সরাসরি এমনটা ভেবে নেয়া ঠিক নয়। যদিও বিভিন্ন হাদিস অনুযায়ী এমনটা আশা করা যায়— মৃত্যুর পর যার পরকালের প্রথম ধাপ কবরের হিসাব-নিকেশ সহজ হবে, তার জন্য পরবর্তী ধাপগুলোও সহজ হবে।