১৭ অক্টোবর, ২০২৬
নিজেকে বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা, অসুস্থতা দূর করা কিংবা বদনজর থেকে বাঁচার আশায় অনেকেই তাবিজ ব্যবহার করেন। তবে ইসলামে তাবিজ পরার বিধান কী? কোরআন-হাদিসের আলোকে এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে কী মত রয়েছে?
ইসলামে তাবিজ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আলেমদের মধ্যে আলোচনা ও মতপার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে তাবিজে কী লেখা আছে, কী উদ্দেশ্যে তা ব্যবহার করা হচ্ছে এবং এর প্রতি ব্যক্তির বিশ্বাস কেমন—এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ইসলামি শিক্ষায় বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আল্লাহর ওপর ভরসা করা, দোয়া করা এবং কোরআন-সুন্নাহসম্মত আমল করার নির্দেশনা রয়েছে। তবে তাবিজ ব্যবহারের ক্ষেত্রে শরিয়তের সীমারেখা মেনে চলা জরুরি।
কোরআন-হাদিসে তাবিজ সম্পর্কে কী বলা হয়েছে?
হাদিসে তাবিজ ও ঝাড়ফুঁকের কিছু পদ্ধতি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে তাবিজ ও অনুরূপ কিছু বিষয় সম্পর্কে কঠোর সতর্কবাণী এসেছে। হাদিসটি সুনান আবু দাউদসহ বিভিন্ন হাদিসগ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।
অন্যদিকে, সহিহ হাদিসে শিরকমুক্ত ঝাড়ফুঁক বা রুকইয়া করার অনুমতি রয়েছে। সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, শিরক না থাকলে রুকইয়া করতে অসুবিধা নেই। এ থেকে বোঝা যায়, কোরআন-সুন্নাহসম্মত দোয়া ও রুকইয়ার বৈধতা এবং তাবিজ ঝুলিয়ে রাখার বিধান এক বিষয় নয়।
কোরআনের আয়াত লেখা তাবিজ কি জায়েজ?
কোরআনের আয়াত বা আল্লাহর নাম লেখা তাবিজ ব্যবহারের বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। একদল আলেম এ ধরনের তাবিজকে নির্দিষ্ট শর্তে অনুমোদন করেছেন। অন্য একদল আলেম সাধারণ নিষেধাজ্ঞা ও অপব্যবহারের আশঙ্কার কারণে তা থেকেও বিরত থাকার মত দিয়েছেন।
তবে তাবিজে যদি শিরকপূর্ণ বাক্য, জিনের সাহায্য চাওয়ার কথা, অজানা মন্ত্র কিংবা ইসলামবিরোধী কোনো বিষয় থাকে, তাহলে তা ব্যবহার করা বৈধ নয়। তাবিজ নিজেই স্বাধীনভাবে উপকার বা ক্ষতি করতে পারে—এমন বিশ্বাসও ইসলামের তাওহিদের শিক্ষার পরিপন্থী।
তাবিজের পরিবর্তে কী করা যেতে পারে?
ইসলামে সুরক্ষা ও কল্যাণের জন্য কোরআন-সুন্নাহসম্মত কিছু আমল রয়েছে। যেমন—
তাহলে তাবিজ পরা কি জায়েজ?
সব ধরনের তাবিজকে একই বিধানের আওতায় ফেলা ঠিক নয়। তাবিজে কী রয়েছে এবং তা কী বিশ্বাসে ব্যবহার করা হচ্ছে, তার ওপর বিষয়টির শরয়ি মূল্যায়ন নির্ভর করে। শিরকপূর্ণ বা অজানা মন্ত্রযুক্ত তাবিজ থেকে বিরত থাকা জরুরি। আর কোরআনের আয়াত লেখা তাবিজের ক্ষেত্রে আলেমদের মতপার্থক্য থাকায় সতর্কতা অবলম্বন করা এবং বিশ্বস্ত যোগ্য আলেম বা মুফতির পরামর্শ নেওয়া উত্তম।