☰
✕

পোষা বিড়ালের শরীরে নতুন পরজীবী, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে মানুষও

২২ অক্টোবর, ২০২৬

পোষা প্রাণী হিসেবে বিড়ালটি কার না পছন্দ? তবে আপনি জানেন কি এই আদুরে প্রাণীটি আপনাকে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলতে পারে? সম্প্রতি বিজ্ঞানবিষয়ক সংবাদমাধ্যম সায়েন্সঅ্যালার্টের এক প্রতিবেদনে এমন আশংকার কথা জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, পোষা বিড়ালের দেহে এমন এক ধরনের পরজীবী পাওয়া গেছে যা মানুষকেও সংক্রমিত করতে পারে। উত্তর আমেরিকার দেড় লাখের বেশি পোষা বিড়ালের নমুনা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পেয়েছেন গবেষকেরা।

কী এই পরজীবী

গবেষণায় মূলত জিয়ার্ডিয়া ডুওডেনালিস নামের একটি প্রোটোজোয়া পরজীবী নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রতি ১০০ বিড়ালের মধ্যে ১৬টির শরীরে এই পরজীবী পাওয়া গেছে।

তবে উদ্বেগের বিষয়, আক্রান্ত বিড়ালগুলোর মধ্যে ১৮ দশমিক ৫ শতাংশের শরীরে মানুষের শরীরে জিয়ার্ডিয়াসিস নামক রোগ ছড়াতে সক্ষম এমন জিনগত ধরন পাওয়া গেছে। এই রোগে আক্রান্ত মানুষের সাধারণত ডায়রিয়া, পেটে ব্যথা ও চরম দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।

বয়স ও ঋতুভেদে সংক্রমণের তারতম্য

বয়স্ক বিড়ালের তুলনায় বিড়ালছানাদের মধ্যে এই সংক্রমণের হার অনেক বেশি বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। ভৌগোলিক অবস্থানের পাশাপাশি ঋতুভেদেও এর ভিন্নতা রয়েছে।

গ্রীষ্মকালের (৪.৬%) তুলনায় শীতকালে বিড়ালের শরীরে এই পরজীবী শনাক্তের হার প্রায় দ্বিগুণ (৮.১%) হয়ে যায়। ঠান্ডা ও আর্দ্র পরিবেশে পরজীবীটির সিস্ট দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকতে পারে বলেই শীতকালে এই ঝুঁকি বাড়ে বলে জানান তারা।

জনস্বাস্থ্য রক্ষায় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

গবেষকরা আরও জানান, মানুষ ও প্রাণীকে সমানভাবে সংক্রমিত করার ক্ষমতা রয়েছে এই পরজীবীর। তাই এটিকে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় উদ্বেগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ছোট শিশু, বয়স্ক মানুষ কিংবা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন সদস্য যাদের পরিবারে রয়েছেন তাদের আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

বাংলাদেশের বিড়ালেও কি এই পরজীবী পাওয়া গেছে?

এই গবেষণাটি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিড়ালের ওপর করা হয়েছে। তাই এই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের পোষা বিড়ালের সংক্রমণের হার নিয়ে সরাসরি কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। 

তবে সুরক্ষার স্বার্থে বিড়ালের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো উচিত। একইসঙ্গে বিড়ালের বর্জ্য পরিষ্কারের পর হাত ভালোভাবে জীবাণুমুক্ত করতে হবে।