২৫ অক্টোবর, ২০২৬
একদিকে পূর্ণিমার চাঁদ, অন্যদিকে হরেক রঙের ফানুস। রাতের আকাশে ঝিলমিল নক্ষত্রের পানে উড়ে যায় আগুনের আলোকশিখা। এসময় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী পুণ্যার্থীদের ‘সাধু, সাধু, সাধু’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। প্রবারণা পূর্ণিমার উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে।
রবিবার ছিল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা। এ উপলক্ষে রাঙামাটির রাজবনবিহারে পুণ্যার্থীদের ঢল নামে। নানা বয়সী নারী-পুরুষের উপস্থিতিতে জনসমুদ্রে পরিণত হয় পুরো বিহার এলাকা।
সকাল ৯টায় রাজবনবিহারের স্বর্গ মাঠে শুরু হয় প্রবারণা পূর্ণিমার বিশেষ প্রার্থনা। এ সময় ‘সাধু, সাধু, সাধু’ ধ্বনিতে উৎসবমুখর হয়ে ওঠেন উপস্থিত পুণ্যার্থীরা। দেশের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় তাঁরা বিশেষ প্রার্থনাও করেন।
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব হওয়ায় প্রবারণা পূর্ণিমা উদ্যাপনে নানা আয়োজন করে রাজবনবিহারের উপাসক-উপাসিকা পরিষদ। এর মধ্যে ছিল বৌদ্ধ ভিক্ষুদের বুদ্ধমূর্তি দান, সংঘদান, অষ্টপরিষ্কার দান, হাজার প্রদীপ দান ও বিশেষ প্রার্থনা। উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ধর্মীয় নির্দেশনা দেন রাজবনবিহারের আবাসিক প্রধান প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির।
শুধু রাজবনবিহারেই নয়, রাঙামাটির ১০১টি বৌদ্ধবিহারে একযোগে প্রবারণা পূর্ণিমা উদ্যাপন করা হয়। বিহারগুলোতে বুদ্ধপতাকা উত্তোলন, ভিক্ষু সংঘের পিণ্ডদান ও প্রাতরাশ, মঙ্গলসূত্র পাঠ, বুদ্ধপূজা, পঞ্চশীল প্রার্থনা, মহাসংঘদান, প্রদীপপূজা ও বিভিন্ন দানানুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী ধর্মীয় আয়োজন চলে।
মারমা জনগোষ্ঠীর কাছে এ উৎসব ‘ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে’ নামে পরিচিত। অন্যদিকে, চাকমা জনগোষ্ঠীর কাছে এটি প্রবারণা পূর্ণিমা হিসেবে পরিচিত। রাঙামাটির পাশাপাশি পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানেও নানা আয়োজনে উৎসবটি উদ্যাপন করা হয়।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাঙামাটির রাজবনবিহারে ফানুস উত্তোলন উৎসবে যোগ দেন রাঙামাটির সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান, রাঙামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক ও জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী। ফানুস উত্তোলনের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে পাহাড়ি জনপদে।