২৬ অক্টোবর, ২০২৬
কোরআন ও হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী তালাক দেওয়ার সর্বোত্তম ও সুন্দর পদ্ধতি হলো, স্ত্রী যখন হায়েজ (মাসিক) থেকে পবিত্র হবে, তখন স্বামী তার সঙ্গে সহবাস না করে সুস্পষ্ট শব্দে এক তালাক দেবে। যেমন—‘আমি তোমাকে তালাক দিলাম’। কিন্তু কোনো স্বামী যদি তালাকের নিয়তে কিনায়া (তালাক হওয়ার সম্ভাবনা রাখে এমন ইঙ্গিতপূর্ণ) বাক্য বলে তাহলে কত তালাক হবে?
এর উত্তরে ফেকাহবিদদের মতামত হলো, কেউ যদি তালাকের নিয়তে কিনায়া (তালাক হওয়ার সম্ভাবনা রাখে এমন ইঙ্গিতপূর্ণ) বাক্য বলে তাহলে তালাকে বায়েন সংঘটিত হয়। ‘অন্য কোনো ছেলে দেখো’—এ বাক্যটিও কিনায়া বাক্যের অন্তর্ভুক্ত।
ইমাম আলাউদ্দিন কাসানি (রহ.) কিনায়া শব্দের উদাহরণ দিতে গিয়ে বলেন, ‘তুমি বিবাহ করো, তুমি স্বামী খোঁজো, তুমি তোমার পরিবারের কাছে চলে যাও’—এ ধরনের বাক্য কিনায়ার অন্তর্ভুক্ত।
কিনায়া বাক্য বলার সময় তিন তালাকের নিয়ত করলে তিন তালাক এবং এক তালাকের নিয়ত করলে এক তালাকে বায়েন সংঘটিত হয়।
তাবেয়ী ইবরাহিম নাখাঈ (রহ.) বলেন, ‘আমাদের ফকীহগণ বলতেন, (কিনায়া বা তালাকের ইঙ্গিতপূর্ণ ) ‘খালিয়াহ’ শব্দ দ্বারা যদি এক তালাকের নিয়ত করা হয়, তাহলে এক তালাকে বায়েন হবে। আর যদি তিন তালাকের নিয়ত করা হয়, তাহলে তিন তালাক হবে।’
আর যদি কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যার নিয়ত না থাকে, বরং শুধু তালাকের নিয়ত থাকে, তাহলে এক তালাকে বায়েন সংঘটিত হয়। ইমাম মুহাম্মাদ (রহ.) বলেন, ‘যদি সে তালাকের নিয়ত করে, কিন্তু তালাকের কোনো সংখ্যা নির্দিষ্ট করার নিয়ত না করে, তাহলে এক তালাকে বায়েন হবে।’
ফকীহ আবদুল্লাহ ইবনে মাহমুদ মাওসিলি (রহ.) বলেন, ‘তুমি স্বামী তালাশ করো’—এ ধরনের কথায় এক তালাক বা তিন তালাকের নিয়ত করা সহীহ। কারণ, বায়েন তালাক লঘু ও কঠিন—উভয় ধরনের হতে পারে। তাই যে ধরনের তালাকের নিয়ত করবে, তা-ই কার্যকর হবে। আর শুধু তালাকের নিয়ত করলে এক তালাক হবে; কারণ, এটিই সর্বনিম্ন।
তাই কোনো স্বামী যদি তালাকের নিয়তে শুধু একবার স্ত্রীকে বলে, ‘তুমি অন্য কোনো ছেলে দেখো’ এবং কথাটি বলার সময় তিনি কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা বা তিন তালাকের নিয়ত না করেন তাহলে এর কারণে এক তালাকে বায়েন সংঘটিত হবে।
এ অবস্থায় স্বামী-স্ত্রী পুনরায় সংসার করতে চাইলে বিয়ে নবায়ন করতে হবে। ইদ্দতের মধ্যে হোক বা ইদ্দত শেষ হওয়ার পর, উভয় ক্ষেত্রেই বিয়ে নবায়নের মাধ্যমেই বৈবাহিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপিত হবে। শুধু মৌখিকভাবে রুজুর (স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনা) মাধ্যমে তা পুনঃস্থাপিত হবে না।
তবে মনে রাখতে হবে, এভাবে তালাকের পর ফিরিয়ে আনলে এ বিয়ের পর স্বামীর কাছে আর দুই তালাকের অধিকার অবশিষ্ট থাকবে। পরবর্তীতে আরও দুই তালাক সংঘটিত হলে মোট তিন তালাক পূর্ণ হয়ে যাবে। তখন নতুন করে বিয়ে করেও দাম্পত্য সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হবে না। তাই এ বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকা জরুরি।