☰
✕

ইরান-মক্কা জোটের বৈঠকের মধ্যেই সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হুথিদের

২৭ অক্টোবর, ২০২৬

সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও চারটি ড্রোন ধ্বংস করেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দেশটির পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে এসব ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন পাঠানো হয়েছিল বলে জানিয়েছে ইয়েমেনে বৈধতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত জোট।

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে ইরানে আঞ্চলিক দেশগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠকের মধ্যেই এ ঘটনা ঘটল।

আরব নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। একই সময়ে দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে পাঠানো চারটি ড্রোনও ধ্বংস করা হয়।

ইয়েমেনে বৈধতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি এ তথ্য জানিয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে আসছে। লোহিত সাগর দিয়ে সৌদি তেল রপ্তানিতে অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার পর হামলার আশঙ্কা আরও বেড়েছে। ইয়েমেনের যেসব এলাকা হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, সেগুলো পুনরুদ্ধারে দেশটির সরকারি বাহিনীকে সমর্থন দিচ্ছে সৌদি আরব। অন্যদিকে, বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে হুথিরা সামরিক তৎপরতা চালাচ্ছে।

ইরান হুতিদের সমর্থন দিয়ে আসছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর তেহরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ লক্ষ্য করেও হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে সৌদি আরবের বেসামরিক স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করেও হামলা চালিয়েছে হুথিরা। রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দরে এক প্রাণঘাতী হামলায় ১৩ জন যাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সোমবার ইরানের রাজধানী তেহরানে বৈঠক করেন সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধি এবং ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম দিনের আলোচনা শেষে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো সংলাপ অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছে। পেজেশকিয়ান আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বিরোধ নিষ্পত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ইরানের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।