০৪ নভেম্বর, ২০২৬
রাঙামাটির সাজেক সড়কে পাল্টাপাল্টি অবরোধে অচল হয়ে পড়েছে জনজীবন। একদিকে কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও গণ অধিকার রক্ষা কমিটির ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে। অন্যদিকে এর প্রতিবাদে বুধবার (৪ নভেম্বর) ভোর ৬টা থেকে ৪৮ ঘণ্টার পাল্টা অবরোধ শুরু করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটি। একের পর এক অবরোধে জিম্মি হয়ে পড়েছেন সাজেকের ৩১ হাজার ৩৮৫ জন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও বাঙালি বাসিন্দা।
অবরোধের কারণে চলাচল করছে না কোনো যানবাহন। বসছে না সাপ্তাহিক হাটবাজার, খুলছে না দোকানপাট। শিক্ষার্থী ও রোগীরাও পড়েছেন দুর্ভোগে। সাজেকের মোট জনসংখ্যার ৮৯ দশমিক ৮১ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ। তাঁদের মধ্যে চাকমা ২২ হাজার ৪৮৪ জন এবং ত্রিপুরা ৫ হাজার ৭০৩ জন। এ ছাড়া বাঙালি জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ৩ হাজার ১৯৮ জন।
অনুন্নত এই জনপদে কর্মসংস্থানের অন্যতম প্রধান অবলম্বন সাজেক ভ্যালির পর্যটনকেন্দ্র। কিন্তু অবরোধের কারণে পর্যটকদের আগমন বন্ধ থাকায় স্থানীয় মানুষের জীবিকা সংকটে পড়েছে। দীর্ঘদিন বেকার থাকার পর অবরোধের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সাজেক পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেওয়া এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর নামে ডাকা অবরোধ কর্মসূচি বন্ধ করে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনার দাবিতে পাল্টা অবরোধের ডাক দিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটি।
সংগঠনটির সদস্যসচিব বিন্দুলাল চাকমা বলেন, ‘মানুষ আর কত দিন বেকার থাকবে? ইউপিডিএফের অবরোধের শেষ কোথায়? পাহাড়ে আধিপত্য বিস্তার করতে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের অবরোধের খেলায় সাধারণ মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। এই অবরোধের খেলা দ্রুত বন্ধ করতে হবে।’
অন্যদিকে অভিযোগ রয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিকে (জেএসএস) সাজেক থেকে সরাতে অবরোধের পথ বেছে নিয়েছে ইউপিডিএফ-সমর্থিত কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও গণ অধিকার রক্ষা কমিটি নামে দুটি সংগঠন।
এদিকে বুধবার সকাল থেকে সাজেকের বিভিন্ন এলাকায় টহল অব্যাহত রেখেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তোফাজ্জল হোসেন জানান, অবরোধ চলমান রয়েছে। তবে সড়কে অবরোধকারীদের অবস্থান নেই। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।