০৪ নভেম্বর, ২০২৬
গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে প্রায় দুই বছর আত্মগোপনে থাকার পর হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবু মোকারমকে (৪৪) গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১১। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানাধীন মেঘনা টোল প্লাজা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে এসআরবি-১১ ব্যাটালিয়ন কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ।
তিনি জানান, গ্রেপ্তার আবু মোকারম চট্টগ্রামের চন্দনাইশ থানার উত্তর বরকল (সর্দার বাড়ি) এলাকার আবু তালেবের ছেলে। চন্দনাইশ থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ২০১৩ সালের ১৯ মে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই বছরের ৯ জুলাই থেকে তিনি কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী ছিলেন।
এসআরবি-১১ এর দেওয়া তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরদিন ৬ আগস্ট সকালে কাশিমপুর কারাগারে বন্দীরা সংঘবদ্ধ হয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও অগ্নিসংযোগ শুরু করেন। একপর্যায়ে কারারক্ষীদের জিম্মি করে বৈদ্যুতিক পিলার ভেঙে তৈরি করা মই দিয়ে কারাগারের সীমানাপ্রাচীর টপকে পালিয়ে যান বন্দীরা। ওই ঘটনায় পালিয়ে যাওয়া বন্দীদের মধ্যে ছিলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবু মোকারমও।
কারাগার থেকে পালানোর পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে বিভিন্ন সময় ছদ্মবেশ ধারণ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোয়েন্দা নজরদারি ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে এসআরবি-১১। এরই ধারাবাহিকতায় ব্যাটালিয়নের একটি চৌকস দল মেঘনা টোল প্লাজা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, পারিবারিক বিরোধের জেরে আবু মোকারমসহ অন্য আসামিরা তার বোনের চাচি শাশুড়িকে হত্যা করে বাড়ির পাশের একটি ধানক্ষেতে ফেলে রাখেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। এ ঘটনায় চন্দনাইশ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় আবু মোকারম ছিলেন এক নম্বর আসামি। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়টি আদালতে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
গ্রেপ্তার আবু মোকারমের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে এসআরবি-১১।