০৪ নভেম্বর, ২০২৬
কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ১১ লাখ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে আটক করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১৫। এ সময় তাদের কাছ থেকে দেশীয় তৈরি পাঁচটি বড় রামদা উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকালে কক্সবাজার স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৫-এর সহকারী পুলিশ সুপার পরিচালক আ ফারুক অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাত ১০টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলভী বাজার আঠারো ঘরপাড়া এলাকার নাফনদের সীমান্ত সংলগ্ন ধানখেতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
আটককৃতরা হলেন- টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের নাইখংখালী এলাকার সলিম উদ্দীনের ছেলে মো. আবছার উদ্দীন (১৯) এবং মৌলভী বাজার এলাকার ছলিম উদ্দীনের ছেলে মো. আদিল (২৬)।
এসআরবি-১৫ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফ সিপিসি-১ ক্যাম্পের সদস্যরা জানতে পারেন, একটি সংঘবদ্ধ মাদককারবারি চক্র হ্নীলা সীমান্ত দিয়ে ইয়াবার একটি বড় চালান দেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে টেকনাফ সিপিসি-১ ক্যাম্পের সহকারী পুলিশ সুপার সোহেল রানার নেতৃত্বে একটি বিশেষ আভিযানিক দল ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। পরে সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্দেহভাজন ৯ থেকে ১০ জনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে অভিযান চালানো হয়। এ সময় অভিযানকারী দলের সদস্যরা দুইজনকে আটক করতে সক্ষম হন।
অভিযান শেষে ঘটনাস্থল থেকে ১১ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে মাদক পাচার ও সংশ্লিষ্ট অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা পাঁচটি দেশীয় তৈরি বড় রামদা জব্দ করা হয়।
সীমান্তবর্তী টেকনাফ দীর্ঘদিন ধরে মাদক চোরাচালানের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা বিভিন্ন পয়েন্ট ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যরা ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক দেশে পাচারের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে প্রায়ই মাদকের বড় চালান উদ্ধার হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এক অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবার পাশাপাশি পাঁচটি বড় দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা সীমান্তে সক্রিয় মাদক কারবারি চক্রের তৎপরতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি সামনে এনেছে।
এ বিষয়ে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৫-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার মোঃ মাহমুদুর রহমান জানান, পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে সীমান্তবর্তী এলাকা ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ মাদক চক্রের মাধ্যমে ইয়াবার বড় বড় চালান দেশে প্রবেশ করছে। এসব মাদক দেশের যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক অপরাধের বিস্তার ঘটাচ্ছে। মাদকের এই ভয়াবহ বিস্তার রোধে এসআরবি-১৫ গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও অন্যান্য অপরাধ নির্মূলে এসআরবি-১৫-এর কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও জানান, গত ৬ অক্টোবর থেকে অদ্যাবধি এসআরবি-১৫ কর্তৃক পরিচালিত ৫৫টি অভিযানে প্রায় ১৬ লাখ ৪০ হাজার ৬৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৪৮ কেজি গাঁজা, ১টি একনলা বন্দুক, ২টি ওয়ান শুটারগান, ১৭ রাউন্ড গুলি ও ২৭ রাউন্ড গুলির খালি খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি ৭ জন অপহৃত ও মানবপাচারের শিকার ভিকটিমকে উদ্ধারসহ সর্বমোট ৮৪ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এদিকে উদ্ধার করা ইয়াবা, জব্দ করা রামদা ও আটক দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের জন্য তাদের টেকনাফ থানায় হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।