০৪ নভেম্বর, ২০২৬
এক সাহাবি রাসুল (সা.)–এর কাছে প্রশ্ন করেন, ‘আমি কি মায়ের ঘরে প্রবেশ করার আগেও অনুমতি চাইব?’ মহানবী (সা.) বলেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই।’ তিনি বললেন, ‘আমরা দুজন একই বাড়িতে থাকি।
’ মহানবী (সা.) বললেন, ‘তারপরও অনুমতি চাইবে।’ সাহাবি বললেন, ‘কিন্তু আমি তো তাঁর সেবাও করি।’ মহানবী (সা.) আবার বললেন, ‘তুমি কি তোমার মাকে বিব্রতকর কোনো অবস্থায় দেখা পছন্দ করবে?’ এবার তিনি বললেন, ‘না, তা কখনোই পছন্দ করব না।’ তখন মহানবী (সা.) বললেন, ‘তাহলে তার ঘরে প্রবেশ করার আগে অবশ্যই অনুমতি চাইবে।
’ (মুয়াত্তা, হাদিস : ১৭৩৮)
হাদিসের শিক্ষা ও বিধান
১. মা-বাবার ঘরে প্রবেশের আগেও অনুমতি নিতে হবে। একই বাড়িতে বসবাস করলেও তাঁদের ব্যক্তিগত কক্ষে প্রবেশের আগে অনুমতি নেওয়া ইসলামী শিষ্টাচারের অংশ।
২. মা-বাবারও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার রয়েছে। তাঁরা সন্তানদের সঙ্গে একই বাড়িতে থাকেন কিংবা সন্তান তাঁদের সেবা-যত্ন করে—তবুও তাঁদের ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান করতে হবে।
৩. অন্যকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলা ইসলামী আদবের পরিপন্থী। কারও ব্যক্তিগত বা অপ্রস্তুত মুহূর্তে অনুমতি ছাড়া উপস্থিত হওয়া উচিত নয়।
৪. ইসলাম মানুষের আত্মসম্মান ও মর্যাদাকে গুরুত্ব দিয়েছে। পরিবারের সদস্য হলেও প্রত্যেকের সম্মান, ব্যক্তিগত পরিসর ও স্বাচ্ছন্দ্য রক্ষা করতে হবে।
৫. সন্তানদের ছোটবেলা থেকেই অনুমতি নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
এতে তাদের মধ্যে শালীনতা, ভদ্রতা ও অন্যের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ তৈরি হবে।
৬. নিজের জন্য যা অপছন্দনীয়, অন্যের ক্ষেত্রেও তা পরিহার করা উচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিকে প্রশ্নের মাধ্যমে বুঝিয়েছেন, তিনি যেমন মাকে বিব্রতকর অবস্থায় দেখতে চান না, তেমনি অনুমতি ছাড়া তাঁর ঘরে প্রবেশ করাও উচিত নয়।