২৫ অক্টোবর, ২০২৪
চীন প্রশান্ত মহাসাগরে জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার জন্য হাইপারসনিক অস্ত্র ব্যবহার করবে বলে আশঙ্কা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এ কারণে মার্কিন নৌবাহিনী কিছু জাহাজে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র বসানোর পরিকল্পনা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের দুজন জ্যেষ্ঠ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা এ কথা জানিয়েছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
অস্ত্র শিল্পে জড়িত এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মার্কিন সেনাবাহিনীর ব্যবহৃত উচ্চ গতিশীল প্যাট্রিয়ট অ্যাডভান্সড ক্যাপাবিলিটি-৩ মিসাইল সেগমেন্ট এনহান্সমেন্ট (পিএসি-থ্রি এমএসই) ইন্টারসেপ্টরগুলো নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজে স্থাপন করা হলে চীনের উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। চীন বর্তমানে উচ্চগতির চলমান হাইপারসনিক অস্ত্রের উন্নতি সাধন করছে। এগুলো প্রতিহত করার ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
লকহিড মার্টিন নির্মিত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে নৌবাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে একীভূত করার কাজ চলছে। ইন্দো-প্রশান্ত অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অঞ্চলটিতে চীন দ্রুত সামরিক শক্তির আধুনিকায়ন করছে।
কতগুলো পিএসি-থ্রি ইন্টারসেপ্টর নৌবাহিনীর প্রয়োজন হবে তা এখনও নির্দিষ্ট করা হয়নি। তবে, এই ক্ষেপণাস্ত্রের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের একজন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ টম কারাকো।
তিনি আরও জানান, বিদেশি সরকারেরাও এ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে, এবং মার্কিন সেনাবাহিনী আগামী বছরগুলোতে উৎপাদন দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা করছে।
জাপানকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের যৌথ উৎপাদনের স্থান হিসেবে বেছে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। লকহিড মার্টিন ফ্লোরিডায় ক্ষেপণাস্ত্রের সিকার উৎপাদনের নতুন একটি কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা করছে
পিএসি-থ্রি ক্ষেপণাস্ত্র ইতোমধ্যে ইউক্রেনে চলমান হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রকে প্রতিহত করেছে। মার্কিন নৌবাহিনী মনে করছে, এটি তাদের বিদ্যমান ক্ষেপণাস্ত্র-বিধ্বংসী ব্যবস্থার জন্য একটি নতুন স্তর যোগ করতে পারে। যদিও এই ব্যবস্থা এখনও এমন অস্ত্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষা করা হয়নি।
মার্কিন নৌবাহিনী রয়টার্সকে জানিয়েছে, জাহাজ থেকে পিএসি-থ্রি এমএসই নিক্ষেপ ও স্পাই-ওয়ান রাডারের সঙ্গে যোগাযোগ যাচাইসহ আরও পরীক্ষার প্রয়োজন হবে। যা অ্যাজিস ক্ষেপণাস্ত্র সিস্টেমের প্রধান সেন্সর হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
এই প্রচেষ্টা মার্কিন সামরিক বাহিনীর আগের পদক্ষেপের পরবর্তী ধাপ হিসেবে গৃহীত হয়েছে। যা ইতোমধ্যে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নতুন অস্ত্র ও কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে বেইজিংকে প্রতিহত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
চীনের সবচেয়ে উন্নত জাহাজ-বিধ্বংসী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ডিএফ-২৭। যা হাইপারসনিক গ্লাইড যান ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম। ২০২৩ সালে এটির পরীক্ষা করা হয়েছিল। পেন্টাগনের চীন সামরিক প্রতিবেদন জানিয়েছে, এই অস্ত্রটি এখনও উন্নয়নের পর্যায়ে রয়েছে।