১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
নীলফামারীর ঐতিহাসিক চিনি মসজিদ বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন মসজিদ স্থাপত্য। নির্মাণ কাজে চিনামাটি ব্যবহার করা হয়েছে বলে এটি ‘চিনা মসজিদ’ নামে পরিচিত। মসজিদটি নীলফামারী সদর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে সৈয়দপুরে অবস্থিত।
১৮৬৩ সালে টিন ও শন দিয়ে এই মসজিদ গড়ে তোলা হয়। মসজিদটির প্রতিষ্ঠাতা স্থানীয় ধনাঢ্য ব্যক্তি হাজী বাকের আলী ও হাজী মক্কু। দিন দিন মুসল্লিদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। ফলে কিছুদিনের মধ্যে দোচালা টিনের ঘরে রূপান্তর করা হয় মসজিদটিকে।
পরে এলাকার লোকেরা মসজিদটি নির্মাণের লক্ষ্যে একটি ফাণ্ড গঠন করেন। এরপর শুরু হয় মসজিদের নির্মাণ কাজ। স্থানীয় বাসিন্দা হাজী আবদুল করিম নিজের হাতে একটি নকশা তৈরি করেন। ১৯২০ সালে ওই নকশা অনুযায়ী চিনি মসজিদ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এলাকাবাসীর দেওয়া চাঁদায় কলকাতা থেকে আনা হয় ২৪৩টি মর্মর পাথর।
মসজিদের গাঁথুনিতে চুন-সুরকি ব্যবহার করা হয়েছে। অনেকেই স্বেচ্ছাশ্রমে মসজিদের নির্মাণকাজে অংশ নেন। এভাবে গড়ে ওঠে ৩৯ বাই ৪০ ফুট আয়তনের পাকা মসজিদ। ১৯৬৫ সালে মসজিদের আয়তন আরো বাড়ানো হয়।
বর্তমানে চিনি মসজিদের মূল ভবনে রয়েছে তিনটি গম্বুজ। আছে ৪৮টি মিনার। উত্তর ও দক্ষিণ প্রান্তে মুসল্লিদের প্রবেশের জন্য দুটি দৃষ্টিনন্দন ফটক আছে। দক্ষিণ অংশে আছে অজুখানা।
মসজিদে একসঙ্গে হাজারের বেশি মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। মসজিদের ওপর তলায় একটি অংশে আছে মুসাফিরখানা।