মান্নতের পশু মারা গেলে কী করবেন?

০৯ নভেম্বর, ২০২৫

ইসলামে মান্নত বা নজর বলা হয় এমন প্রতিশ্রুতিকে, যা শরিয়ত আবশ্যক করেনি। অনেক মানুষই কোনো কামনা পূরণের আশায় মান্নত করে, ‘যদি আমার এই কাজটি হয়ে যায়, তাহলে আমি একটি পশু কোরবানি করব।’ কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, মান্নতের জন্য রাখা সেই পশুটি কোরবানির আগেই অসুস্থতা বা দুর্ঘটনায় মারা যায়। এমন পরিস্থিতিতে কী নতুন করে আরেকটি পশু কিনে মান্নত পূরণ করতে হবে, নাকি মান্নতটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে রদ হয়ে যায়- এ প্রশ্নই সাধারণ মানুষের মনে ঘুরপাক খায়। চলুন, বিস্তারিত জেনে নিই।

মান্নতের প্রকারভেদ

ইসলামি আইনশাস্ত্র বা ফিকহের দৃষ্টিতে মান্নত মূলত দুই ধরনের। প্রথমটি হলো শর্তহীন মান্নত, যেমন কেউ বললেন, ‘আমি দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ব’ বা ‘অমুক পরিমাণ টাকা দান করব।’ এ ধরনের মান্নত জায়েজ। দ্বিতীয়টি হলো শর্তযুক্ত মান্নত, যেমন বলা হয়, ‘যদি আমার সন্তান পরীক্ষায় পাশ করে, তাহলে আমি একটি ছাগল কোরবানি করব।’ 

নির্দিষ্ট ও অনির্দিষ্ট মান্নত

আর এই শর্তযুক্ত মান্নতেরও আবার দু’রকম রূপ হতে পারে। ১. অনির্দিষ্ট মান্নত, যেখানে শুধু বলা হয় ‘একটি পশু কোরবানি করব’—যেখানে কোনো নির্দিষ্ট পশু চিহ্নিত করা হয় না। ২. নির্দিষ্ট মান্নত, যেমন বলা হয় ‘এই বিশেষ ছাগলটিই কোরবানি করব’—এক্ষেত্রে পশুটি আলাদাভাবে চিহ্নিত থাকে।

মারা গেলে কী হবে?

প্রশ্ন হলো, যদি কেউ নির্দিষ্ট পশু মান্নত করেন এবং সেটি মারা যায়, তাহলে কী হুকুম? ফিকহের বিখ্যাত গ্রন্থগুলোতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, এ অবস্থায় নতুন করে অন্য পশু কোরবানি করা জরুরি নয়। কারণ, মান্নতটি ছিল শুধু সেই নির্দিষ্ট পশুটির সঙ্গে সম্পর্কিত। পশুটি মারা যাওয়ায় মান্নতের বিষয়বস্তুই বিলুপ্ত হয়েছে, তাই শরিয়তের দৃষ্টিতে দায়িত্বও শেষ হয়ে গেছে।

কী কী খেয়াল রাখবেন

তবে এখানে একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে, যদি পশুটি ইচ্ছাকৃতভাবে মারা হয়, তাহলে ভিন্ন হুকুম প্রযোজ্য হতে পারে। আর কেউ চাইলে নফল হিসেবে অতিরিক্ত সওয়াবের নিয়তে নতুন পশু কোরবানি করতে পারেন, কিন্তু সেটি মান্নত হিসেবে গণ্য হবে না। ভবিষ্যতে এ ধরনের জটিলতা এড়াতে মান্নত করার সময় ‘এই পশু’ না বলে ‘একটি পশু’ বলাই উত্তম।

ইসলামের সহজতা

মূল কথায়, ইসলাম হলো সহজতার ধর্ম। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেছেন, ‘আল্লাহ কারো উপর তার সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেন না’ (সুরা বাকারা: ২৮৬)। তাই মান্নতের পশু মারা গেলে অহেতুক চিন্তিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে কোনো জটিল বা সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে স্থানীয় কোনো আলেম বা ইসলামিক সেন্টার থেকে সঠিক দিকনির্দেশনা নিয়ে নেওয়াই শ্রেয়।

(বাদায়িউস সানায়ে: ৪/১৯৯; আল মাবসুত, সারাখসি: ১২/১৩; তুহফাতুল ফুকাহা: ৩/৮৬-৮৭; রদ্দুল মুহতার: ৬/৩২৫)

বিঃদ্রঃ: জটিল ক্ষেত্রে স্থানীয় আলেমের পরামর্শ নিন।